“উত্তাল পদ্মায় তলিয়ে যাচ্ছিলাম সবাই!”-১০ বাংলাদেশিকে মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচালেন বিএসএফ জওয়ানরা

সাহসিকতার সঙ্গে চরম মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করল ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ (BSF)। মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা থানার তারানগর সীমান্তে উত্তাল পদ্মার জলে ডুবে বসা মোট ১০ জন বাংলাদেশিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করেছেন বিএসএফ জওয়ানরা। শুধু তাই নয়, প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবারদাবারের বন্দোবস্ত করার পর সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই মানুষগুলিকে নিরাপদে তাঁদের নিজেদের দেশেও ফিরিয়ে দিয়েছে বাহিনী।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা থানার তারানগর সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে চলা বর্ষার ভরা পদ্মায়। প্রতিদিনের মতো সেদিনও ওপারের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা ওই ১০ জন মানুষ একটি সাধারণ নৌকায় চেপে পদ্মা নদী পারাপার করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু মাঝনদীতে আচমকাই শুরু হয় প্রবল ঢেউ এবং মারাত্মক স্রোতের তোড়। নদীর সেই রুদ্রমূর্তির সামনে টিকতে না পেরে চোখের পলকে উল্টে যায় ছোট্ট নৌকাটি এবং জলের অতল গভীরে তলিয়ে যেতে শুরু করেন যাত্রীরা।

ভাগ্যক্রমে নদীর এই পাড়েই তারানগর এলাকায় তখন নিয়মিত টহলদারি চালাচ্ছিল বিএসএফ। জওয়ানদের চোখে পড়ে যে পদ্মার মাঝখানে কিছু মানুষ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে চরম সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেন তাঁরা। নদীর উত্তাল ঢেউ ও মারাত্মক স্রোতের বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে তৎক্ষণাৎ স্পিডবোট নিয়ে সোজা বিপদের মুখে ছুটে যান জওয়ানরা। একে একে নদী থেকে উদ্ধার করা হয় মোট ১০ জন মানুষকে, যাঁর মধ্যে একটি দুধের শিশুও ছিল।

জল থেকে উদ্ধারের পরেই থেমে থাকেনি বাহিনী। জওয়ানরা তাঁদের ঘাটে নিয়ে এসে সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এমনকি তাঁদের শুকনো জামাকাপড়, খাবার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বন্দোবস্ত করে বিএসএফ আবারও প্রমাণ করে দিল যে তাঁরা কেবল দেশরক্ষা করতেই জানেন না, মানবতার আসল পাঠটাও তাঁদের নখদর্পণে রয়েছে। মানসিকভাবে কিছুটা চাঙ্গা হওয়ার পর কোনো রকম আইনি জটিলতা না রেখে বিএসএফ সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুর্গতদের নিরাপদে তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *