২৩০ টাকার খাবার অনলাইনে আসতেই হয়ে গেল ৪৩৬ টাকা! মাঝপথে এ কোন পকেটমারির শিকার হলেন ক্রেতা?

ঘরের দরজায় খাবার পৌঁছে দেওয়ার সুব্যবস্থা আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে তুলেছে ঠিকই, কিন্তু এর জন্য পকেট থেকে ঠিক কতখানি খেসারত দিতে হচ্ছে, তা সম্প্রতি হাতেনাতে প্রমাণ করে দিলেন এক গ্রাহক। রেস্তোরাঁর আসল বিল এবং অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপ ‘সুইগি’-র দামের একটি তুলনামূলক চিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। যা দেখে চোখ কপালে উঠেছে সাধারণ মানুষের।
পুরো চাঞ্চল্যকর ঘটনার নেপথ্যে কী রয়েছে? একনজরে দেখে নিন:
-
খাবারের দামে আকাশ-পাতাল ফারাক: হায়দরাবাদের বंजারা হিলসের একটি নামী রেস্তোরাঁ থেকে এক ব্যক্তি ডসা, পঙ্গল ও ফিল্টার কফি অর্ডার করেছিলেন। রেস্তোরাঁর ট্যাক্সসহ আসল বিল এসেছিল মাত্র ২৩০ টাকা। কিন্তু কোনো রকম কুপন বা ডিসকাউন্ট ছাড়াই যখন ওই একই খাবার সুইগি অ্যাপে দেখা হয়, তখন তার দাম পৌঁছায় সোজা ৪৩৬ টাকায়!
-
আইটেম প্রতি অতিরিক্ত মার্জিন: দেখা গেছে, রেস্তোরাঁয় যে আনিয়ন ডোসার দাম ১০৪ টাকা, তা অ্যাপে হয়ে গেছে ১৪৯ টাকা। পঙ্গলের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১৫ টাকা। আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, যে ফিল্টার কফি রেস্তোরাঁয় মাত্র ২৮ টাকায় পাওয়া যায়, তার দাম অ্যাপে পৌঁছে গেছে সরাসরি ১২০ টাকায়! অর্থাৎ কোনো ডেলিভারি চার্জ বা জিএসটি যোগ হওয়ার আগেই শুধু খাবারের দামেই ফারাক হয়ে গেছে ২০৬ টাকা।
-
নেটদুনিয়ায় শুরু তীব্র বিতর্ক: এই পোস্ট সামনে আসার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের একাংশের দাবি, ক্যাব ভাড়া দিয়ে সশরীরে রেস্তোরাঁয় গিয়ে খেয়ে আসাও এর চেয়ে অনেক সস্তা। তবে অন্য একটি পক্ষের মত, ডোরস্টেপ ডেলিভারি এবং নানা সুবিধার জন্য অ্যাপগুলোরও নিজস্ব খরচ রয়েছে।
ঘরে বসে অনলাইন খাবার অর্ডার করার এই লুকানো খরচ কি আদতে গ্রাহকদের পকেট ফাঁকা করছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে নেটপাড়ার প্রতিটি কোণায়।