ব্রিকসে আচমকা বক্তব্য থামালেন মোদী! কী হয়েছিল চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের? ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে তোলপাড়

দীর্ঘ সাত বছর পর ভারত সফরে এসেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আর ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের উদ্বোধনী মঞ্চেই সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তের। ভাষণ চলাকালীন চিনা প্রেসিডেন্টের শারীরিক অস্বস্তি নজরে আসতেই নিজের বক্তব্য থামিয়ে তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহ কাটিয়ে এই মানবিক সৌজন্যের ছবি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল মঞ্চে?

সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণ দেওয়ার সময়, ভিডিওর ৪ মিনিট ৪০ সেকেন্ড থেকে ৫ মিনিট ১১ সেকেন্ডের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। চিনের প্রেসিডেন্টকে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে দেখে মোদী তাঁর দিকে ঘুরে দাঁড়ান এবং পাশে থাকা দোভাষীকে প্রশ্ন করেন, “তিনি কি ঠিক আছেন?” কয়েক সেকেন্ড পর চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মাথা নেড়ে জানান যে তিনি সুস্থ বোধ করছেন। এরপরই প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাকি ভাষণ শেষ করেন। যদিও জিনপিংয়ের কী সমস্যা হয়েছিল, সে বিষয়ে বেইজিংয়ের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

নৈশভোজে অনুপস্থিত জিনপিং, জল্পনা

দিনের শেষে ব্রিকস রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দেওয়া রাজকীয় নৈশভোজে অনুপস্থিত ছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট। এই অনুপস্থিতি ঘিরে বিভিন্ন কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হলেও জানা গিয়েছে, টানা সফরের ধকল ও ক্লান্তি এড়াতেই তিনি হোটেলে বিশ্রামের সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, শনিবার ভোরে চিন থেকে রওনা হয়ে দুপুরে দিল্লিতে পৌঁছান জিনপিং এবং নেমেই মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।

মামলপুরমের স্মৃতি ও হাত মেলানোর দৃশ্য

ভারত মণ্ডপমে চিনের প্রেসিডেন্টকে বিশেষ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী। ব্যাকগ্রাউন্ডে ছিল তামিলনাড়ুর রামেশ্বরম মন্দিরের বিশাল স্তম্ভের ছবি, যা ২০১৯ সালের মামলপুরমে মোদী-জিনপিং ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের স্মৃতি উসকে দেয়। সম্মেলনে মোদী, জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একসঙ্গে হাত তুলে ছবি তোলার মুহূর্তটিও নজর কেড়েছে বিশ্ববাসীর। এছাড়া, ব্রিকসের নতুন দিল্লি ঘোষণাপত্রে পহলগাঁও-এর সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দাও জানানো হয়েছে।

সৌহার্দ্যের মধ্যেও সীমান্ত বিতর্কই মূল কাঁটা

সৌহার্দ্যপূর্ণ এই বৈঠকের মধ্যেও সীমান্ত সমস্যার বিষয়টি ঢাকা পড়েনি। ভারত ও চিন—দুই পক্ষই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হলেও সীমান্ত নিয়ে দু’দেশের মূল অবস্থানে স্পষ্ট ফারাক ছিল:

ভারতের অবস্থান: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানান, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নতির জন্য সীমান্ত এলাকায় সম্পূর্ণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা “অপরিহার্য শর্ত”।

চিনের অবস্থান: চিনের পক্ষে জানানো হয়, সীমান্ত শান্তি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি দুটোকেই সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে পূর্ব লাদাখ ও গালওয়ান উপত্যকার সংঘাতের পর ভারত-চিন সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করলেও সীমান্ত বিরোধ এখনও দু’দেশের সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর জায়গা হিসেবেই থেকে গেছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *