সিদ্ধিভিনায়ক থেকে রণথম্ভোর! ভক্তদের মনস্কামনা পূরণে জুড়ি মেলা ভার দেশের এই ৭ বিখ্যাত গণেশ মন্দিরের

হিন্দুধর্মে যেকোনো শুভ কাজের সূচনা হয় বিঘ্নহর্তা ভগবান গণেশের আরাধনার মধ্য দিয়ে। সিদ্ধিদাতা গণেশের প্রতি দেশের কোটি কোটি ভক্তের অগাধ বিশ্বাস রয়েছে। আর এই ভক্তির উন্মাদনা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় গণেশ চতুর্থীর উৎসবের দিনগুলোতে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বহু প্রাচীন ও বিখ্যাত গণেশ মন্দির তাদের অলৌকিক ইতিহাস এবং বিশাল আয়োজনের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত। এই মন্দিরগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত ভিড় জমান এবং সাধ্যমতো সোনা, রুপো থেকে শুরু করে নানা মূল্যবান সামগ্রী নৈবেদ্য হিসেবে নিবেদন করেন।
এই বিশেষ মন্দিরগুলির তালিকার শীর্ষে রয়েছে মুম্বাইয়ের শ্রী সিদ্ধিভিনায়ক মন্দির। প্রভাদেবীর প্রায় দুই শতাব্দী পুরনো এই মন্দিরে কালো পাথরের মূর্তির দুই পাশে ঋদ্ধি ও সিদ্ধির অবস্থান ভক্তদের প্রধান আকর্ষণ। ভক্তরা এখানে কোটি কোটি টাকার সোনা ও মূল্যবান উপহার অর্পণ করেন। অন্যদিকে, পুনের শ্রীমন্ত দাগদুশেঠ হালওয়াই গণপতি মন্দির তার জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব এবং সমাজসেবামূলক কাজের জন্য দেশজুড়ে বিখ্যাত। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের খাজরানা গণেশ মন্দির সম্পর্কে বিশ্বাস রয়েছে যে, এখানে এসে আন্তরিক মন থেকে প্রার্থনা করলে সমস্ত ইচ্ছা পূরণ হয়।
তালিকায় রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুরের কানিপাকাম বিনায়ক মন্দির, যেখানে ভগবান গণেশের একটি স্বয়ম্ভূ মূর্তি রয়েছে যা কুয়োর জলের মধ্যে অবস্থিত এবং স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এর আকার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজস্থানের জয়পুরের মতি ডুংরি গণেশ মন্দির তার রাজকীয় ইতিহাস ও উৎসবের আমেজের জন্য পরিচিত। তবে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ঐতিহ্য রয়েছে রাজস্থানের রণথম্ভোর দুর্গের ভেতরের ত্রিনেত্র গণেশ মন্দিরে। এখানকার মূল আকর্ষণ হলো—বিবাহ বা যেকোনো শুভ কাজের প্রথম আমন্ত্রণপত্রটি সবার আগে এই মন্দিরে পাঠানো, যা অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। এছাড়া মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর চিন্তামণি গণেশ মন্দির ভক্তদের মানসিক দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ দূর করার পপীঠস্থান হিসেবে পরিচিত। সমস্ত মন্দিরের নিজস্ব অলৌকিক মহিমা ও অনন্য ঐতিহ্যই ভক্তদের বারবার টেনে নিয়ে আসে।