পাঁচটি নদী পার, ২৮ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে দুর্গম পাহাড়ে! মাত্র ১৭টি শিশুর জন্য এই আশাকর্মীর কীর্তি দেখলে স্যালুট জানাবেন!

নেই কোনো পাকা রাস্তা, চারপাশ ঘিরে রয়েছে গভীর জঙ্গল, আর মাঝে রয়েছে খরস্রোতা নদী ও পাহাড়ি চড়াই-উতরাই। সমস্ত প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পিঠে ভ্যাকসিনের ক্যারিয়ার ঝুলিয়ে টানা ২৮ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে এক অবিশ্বাস্য নজির গড়লেন মণিপুরের এক আশাকর্মী। মাত্র ১৭ জন শিশুর মুখে পোলিও ফোঁটা তুলে দিতে তাঁর এই দুঃসাহসিক ও নিঃস্বার্থ অভিয়ান এখন নেটদুনিয়ায় সবমহলের মন জয় করে নিয়েছে।
মণিপুর সরকারের ‘ইনটেনসিভ পালস পোলিও ইমিউনাইজেশন’ (IPPI) অভিযানের অংশ হিসেবে এই সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন তামেলং জেলার নেনলাউং আতাংখুলেন গ্রামের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সি আশাকর্মী মেইদিনলিউ নিউমাই। ২০০৭ সাল থেকে তিনি তামেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আশাকর্মী হিসাবে কর্মরত।
জানা গিয়েছে, তামেই সদর দপ্তর থেকে নির্দিষ্ট গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য উপযুক্ত কোনো যাতায়াতের রাস্তা নেই। বিশেষ করে বর্ষার দিনে গভীর জঙ্গল এবং প্রায় পাঁচটি খরস্রোতা নদী পেরিয়ে দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু তাতেও দমে যাননি মেইদিনলিউ। গ্রামের মাত্র ১৭ জন শিশুর (যাদের বয়স শূন্য থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে) ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই দীর্ঘ পথ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছান এবং সমস্ত শিশুকে পোলিও টিকা খাওয়ান।
তাঁর এই সাহসিকতা ও কাজের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মণিপুরের রাজ্যপালও তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে একজন মহিলার এমন মানবিক ও অসামান্য অবদান সত্যিই দেশের কাছে এক দারুণ অনুপ্রেরণা।