ব্রিকস সামিটে মোদির মাস্টারস্ট্রোক! মালয়েশিয়া ও ইথিওপিয়ার সঙ্গে বড় দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, নজরে কোন কোন ক্ষেত্র?

দিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনেই কূটনৈতিক তৎপরতায় বিশ্বমঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল ভারত। রাজধানী দিল্লিতে দেশ-বিদেশের হেভিওয়েট অতিথিদের উপস্থিতির মাঝে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। বিশেষ করে মালয়েশিয়া, ইথিওপিয়া এবং আবুধাবির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকগুলি ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও নতুন সিদ্ধান্ত:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ আমন্ত্রণে ব্রিকসে অংশীদার দেশ হিসেবে যোগ দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এদিন নয়াদিল্লিতে তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত উষ্ণ পরিবেশে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। দুই নেতা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের পর থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক অগ্রগতির পর্যালোচনা করেন।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, পরিকাঠামো, ডিজিটাল অর্থনীতি, শক্তি, ফিনটেক, শিক্ষা এবং পর্যটনের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিশেষ করে, মালয়েশিয়ার সাবা প্রদেশের কোটা কিনাবালুতে ভারতের একটি কনস্যুলেট জেনারেল বা বাণিজ্যদূত খোলার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে মালয়েশিয়া। পাশাপাশি, আসিয়ান-ভারত সম্পর্ক মজবুত করতে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
ইথিওপিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক পর্যালোচনা:
মালয়েশিয়ার পাশাপাশি ফেডারেল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আবি আহমেদ আলীর সঙ্গেও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক আদ্দিস আবাবা সফরের পর এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন দিশা দেখাল।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত ক্ষেত্রগুলির অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক নানা ইস্যুতে বহুপক্ষীয় মঞ্চে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা। ব্রিকস সম্মেলনে ইথিওপিয়ার সক্রিয় উপস্থিতি ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর সম্মিলিত কণ্ঠস্বরকে আরও জোরালো করবে বলে মতপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ:
এছাড়াও, এই মেগা সামিটের ফাঁকেই আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালিদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE) মধ্যে দীর্ঘদিনের দৃঢ় এবং ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে ভবিষ্যতের দিনগুলিতে আরও কোন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যায়, সে বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।