মন্দির থেকে বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক পরিণতি! বেপরোয়া ডাম্পারের চাকায় পিষে প্রাণ হারালেন শিক্ষিকা

মধ্যপ্রদেশের জবলপুর শহরে বেপরোয়া ভারী যানবাহনের দৌরাত্ম্যে ফের ঝরে গেল একটি তাজা প্রাণ। মন্দির থেকে পুজো দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এক স্কুল শিক্ষিকাকে সজোরে ধাক্কা মড়ায় এক বেপরোয়া ডাম্পার (হাইভা)। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ানোর পাশাপাশি ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
যেভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ওই মহিলার নাম অঞ্জলি গুপ্তা, যিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে বাচ্চাদের টিউশন পড়ানোর পর তিনি স্থানীয় একটি মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। রাত আনুমানিক ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে পুজো সেরে বাড়ি ফেরার সময় সঞ্জীবনি নগর থানার অন্তর্গত প্যাটেল সুইটসের সামনে পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ডাম্পার তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কায় রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হন অঞ্জলি।
হাসপাতালে নেওয়ার পথেই সব শেষ
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রোহিত সিং ঠাকুর জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় রাস্তায় বেশ ভালোই লোকজনের চলাচল ছিল। হাইভা চালক অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এবং চরম গাফিলতি নিয়ে গাড়িটি চালাচ্ছিল। হঠাৎ এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় এলাকায় কান্নাকাটি ও হাহাকার পড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা কালবিলম্ব না করে গুরুতর জখম অঞ্জলিকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং অভ্যন্তরীণ মারাত্মক জখমের কারণে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই শিক্ষিকা।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, উঠছে একাধিক প্রশ্ন
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর শহরের ব্যস্ত রাস্তায় ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল এবং ‘নো-এন্ট্রি’ নিয়ম লঙ্ঘন নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, শহরের জনবহুল রাস্তায় এই ধরনের ভারী ও বেপরোয়া গাড়িগুলির চলাচল পথচারীদের জন্য নিত্যদিনের মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা উদিত কুমার শর্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে চালকদের উদ্দেশ্যে কড়া সড়ক নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার আর্জি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সামান্য একটু সচেতনতা এবং নিয়মের সামান্য অবহেলাই একটি হাসিখুশি পরিবারকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে পারে।
পুলিশের পদক্ষেপ
ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই দ্রুত পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আয়ুষ জাখর জানিয়েছেন, প্যাটেল সুইটসের কাছে ডাম্পারের ধাক্কায় এক মহিলার মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘাতক ডাম্পারটিকে বাজোপ্ত করার পাশাপাশি এর চালক রাকেশ ঝাড়িয়া (বাসিন্দা মढ़ाতাল)-কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঠিক কারণ এবং চালকের ঠিক কতটা গাফিলতি ছিল তা খতিয়ে দেখতে আশপাশের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে।