‘খাবার টাটকা তো?’ সৈকত শহরের রেস্তোরাঁয় খদ্দেরদের জেরার মুখে হতবাক ব্যবসায়ীরা!

সামনেই দুর্গোৎসব, আর এই উৎসবের মরশুমে দিঘা ও মন্দারমণির মতো জনপ্রিয় সৈকত শহরগুলিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় স্বাভাবিক। তবে ছুটির আনন্দে মেতে ওঠার আগে পর্যটকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জেলাজুড়ে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিতে জোরদার অভিযান শুরু করেছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ব্যবসায়িক মহলে।

গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে—দিঘা, মন্দারমণি, কাঁথি, এগরা, তমলুক ও হলদিয়ার একাধিক হোটেল এবং রেস্তোরাঁয় যৌথ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। বিভিন্ন হোটেলের হেঁশেল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা মিলেছে পচা মাছ, মাংস এবং নিষিদ্ধ ক্ষতিকারক ফুড কালারের। এমনকি খাবারের মানের পাশাপাশি পানীয় জলের বিশুদ্ধতা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এই অনিয়মের জেরে ইতিমধ্যেই জেলার বেশ কিছু হোটেল ও রেস্তোরাঁকে সরকারিভাবে নোটিস পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে দিঘা ও মন্দারমণির বেশ কিছু জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

প্রশাসনের এই লাগাতার অভিযানের ফলে জনমানসে যেমন সচেতনতা তৈরি হয়েছে, তেমনই সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও একধরনের সংশয় দানা বেঁধেছে। বহু পর্যটক এখন রেস্তোরাঁয় খাবার অর্ডার করার আগে সরাসরি জানতে চাইছেন—‘খাবার টাটকা তো?’ কাঁথি আদালতের সংলগ্ন অঞ্চলের প্রবীণ মিষ্টি ব্যবসায়ী বিষ্ণুপদ জানা জানান, তাঁরা খাবারে কোনো কৃত্রিম রং ব্যবহার না করলেও এই কড়া নজরদারির জেরে দোকান ও উৎপাদনের পরিচ্ছন্নতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে, দিঘার এক রেস্তোরাঁ মালিকের কথায়, পর্যটকদের টাটকা খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করতে এখন থেকে মাছ ও মাংসের পদ আগের চেয়ে অনেক কম পরিমাণে রান্না করা হচ্ছে।

খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের এই তৎপরতা যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক বিশ্বজিৎ মান্না। তিনি জানান, প্রশাসনের ভয়ে এখন অনেক হোটেল ও রেস্তোরাঁর কর্মীরা রান্নাঘরে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলছেন। মাথায় ক্যাপ, মুখে মাস্ক এবং হাতে গ্লাভস পরে খাবার পরিবেশন ও তৈরির কাজ করতে দেখা যাচ্ছে তাঁদের। পুজোর আগে প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপে পর্যটকরা যেমন নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার পাওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত হচ্ছেন, তেমনই হোটেল মালিকরাও নিজেদের পরিষেবার মান উন্নত করতে বাধ্য হচ্ছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *