বাইরে থেকে সম্পূর্ণ পুরুষ, অথচ গর্ভে লুকিয়ে রয়েছে নারীর অঙ্গ! বিরলতম রোগে আক্রান্ত যুবকের কাহিনী জানলে শিউরে উঠবেন

সন্তান না হওয়ার কারণে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে এক অবিশ্বাস্য ও বিরল ঘটনার মুখোমুখি হলেন ২৬ বছরের এক যুবক। বাইরে থেকে তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক পুরুষ মনে হলেও, চিকিৎসা করাতে গিয়ে জানা যায় তাঁর শরীরের অন্দরে লুকিয়ে রয়েছে মহিলাদের প্রজনন অঙ্গ! চিকিৎসকদের ভাষায় এই বিরলতম শারীরিক সমস্যার নাম— ‘পারসিস্টেন্ট মুলারিয়ান ডাক্ট সিন্ড্রোম’ (PMDS)। সারা বিশ্বে এই ধরনের ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরলতম।

ঠিক কী ঘটেছিল ওই যুবকের সঙ্গে?
দিল্লির একটি হাসপাতালে বন্ধ্যত্বের সমস্যা বা ইনফার্টিলিটি নিয়ে পরীক্ষা করাতে গিয়েছিলেন ২৬ বছর বয়সি ওই যুবক (নাম পরিবর্তিত)। কিন্তু এমআরআই এবং জেনেটিক পরীক্ষা করার পরেই চিকিৎসকদের চোখ কপালে ওঠে। রিপোর্টে দেখা যায়, তাঁর ক্রোমোজোম প্যাটার্ন ৪৬,XY অর্থাৎ তিনি জেনেটিক দিক থেকে সম্পূর্ণ পুরুষ হলেও, তাঁর পেটের ভেতরে রয়েছে জরায়ু এবং ফ্যালোপিয়ান টিউব-এর মতো নারী প্রজনন অঙ্গ!

চিকিৎসকদের প্রধান বিস্ময়ের বিষয় ছিল যে, শৈশবেই এই রোগ ধরা পড়ার কথা থাকলেও ২৬ বছর বয়স পর্যন্ত তা কীভাবে কারও চোখ এড়িয়ে গেল। চিকিৎসকদের মতে, যুবকের বয়স এবং দীর্ঘদিন ধরে অণ্ডকোষ পেটের ভেতরে আটকে থাকার কারণে টেস্টিকুলার ক্যানসারের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আরজি হাসপাতালের প্রধান ইউরোলজিস্ট ডা. সুশীল খরবন্দা এবং তাঁর টিম ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যুবকের শরীরের অস্বাভাবিক মুলারিয়ান গঠন এবং উভয় অণ্ডকোষই সফলভাবে অপসারণ করেন।

আসলে কী এই বিরল PMDS সমস্যা?
চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, মায়ের গর্ভে ভ্রূণ তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ে দু’ ধরনের নালি থাকে— ‘মুলারিয়ান ডাক্ট’ (যা পরবর্তীকালে নারীদের জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব তৈরি করে) এবং ‘উলফিয়ান ডাক্ট’ (যা পুরুষ প্রজনন অঙ্গ তৈরি করে)।

যদি সন্তান ছেলে হয়, তবে শরীর একটি বিশেষ হরমোন (AMH) তৈরি করে যা মুলারিয়ান ডাক্টকে অদৃশ্য করে দেয়। কিন্তু পিএমডিএস (PMDS)-এ আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই হরমোন বা এর সিগন্যাল সঠিকভাবে কাজ করে না। ফলে পুরুষের শরীরেও জরায়ু বা ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো গঠন থেকে যায়।

কী কারণে এত দেরিতে ধরা পড়ে এই রোগ?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাইরে থেকে পুরুষদের সম্পূর্ণ স্বাভাবিক দেখায়। সাধারণত অণ্ডকোষ অণ্ডথলিতে না নামা (Undescended testes), বন্ধ্যত্ব বা অন্য কোনও সার্জারির সময় আকস্মিক পরীক্ষার মাধ্যমেই এই রোগ ধরা পড়ে। অনেক সময় লজ্জা বা সংকোচের কারণে পরিবারগুলি শৈশবে চিকিৎসা করাতে দেরি করে, যার ফলে সমস্যাটি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত অজানাই থেকে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতাই এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়। শিশুদের ক্ষেত্রে যদি অণ্ডকোষ যথাস্থানে নেমে না আসে, তবে দেরি না করে অবিলম্বে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *