মাার কাটা মুণ্ডু সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়াল প্রেমিক! ২ বছরের শিশুর কঙ্কাল উদ্ধারে শিউরে উঠল পূর্ণিয়া

বিহারের পূর্ণিয়া জেলা থেকে এক পৈশাচিক ও রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর সামনে এসেছে, যা শুনে যে কারোরই রক্ত হিম হয়ে যাবে। প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বিয়ের জন্য ক্রমাগত চাপের জেরে এক মহিলা ও তাঁর দুবছরের শিশুকন্যাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পুলিশ মূল অভিযুক্ত মোহাম্মদ মোফিলকে গ্রেফতার করেছে এবং তার দেখানো জায়গাতেই নিহত মহিলার কাটা মুণ্ডু ও শিশুর কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে।
কী ঘটেছিল আসলে? পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মহিলার নাম পূজা দেবী। তিনি নিজের স্বামী পবন শর্মাকে ছেড়ে রঘু মোগলানির বাসিন্দা মোহাম্মদ মোফিলের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতেন। পূজা মোফিলকে বিয়ে করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করছিলেন। অভিযোগ, এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে প্রবল বিবাদের সূত্রপাত হয়। এর জেরেই মোফিল অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় পূজাকে খুন করে এবং পরিচয় লোপাট করতে তাঁর মাথাটি ধড় থেকে আলাদা করে নিজের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে ফেলে। শুধু তাই নয়, পূজার দুই বছরের শিশুকন্যা অনুষ্কাকেও খুন করে নিখোঁজ করে দেওয়া হয়েছিল।
মোবাইল লোকেশনের সূত্র ধরে পুলিশের জালে অভিযুক্ত: মরঙ্গা থানা এলাকার কল্যাণপুর চক পুলের কাছে ৩ নম্বর খালের পাশ থেকে প্রথমে এক মহিলার মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধার হয়। এই নৃশংস ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পূর্ণিয়ার এসএসপির নির্দেশ গঠিত বিশেষ দল এবং এফএসএল (FSL) টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ রঘু মোগলানির বাসিন্দা মোহাম্মদ মোফিলকে হেফাজতে নেয়।
উদ্ধার কাটা মুণ্ডু ও শিশুর কঙ্কাল: পুলিশের জেরার মুখে সমস্ত সত্য স্বীকার করে অভিযুক্ত মোফিল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে পূজা দেবীর কাটা মুণ্ডু এবং তাঁর দুবছরের মেয়ে অনুষ্কার মরদেহের কঙ্কাল উদ্ধার করে। এছাড়াও, ওই মহিলার বড় মেয়েকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, যাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তার দাদুর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। নিহত মহিলার ৭০ বছর বয়সি শ্বশুর জলধর শর্মার অভিযোগের ভিত্তিতে মরঙ্গা থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।