পাকিস্তান ক্রিকেটে চরম ভূকম্পন! নিষিদ্ধ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হক, কড়া পদক্ষেপ বোর্ডের

পাকিস্তান ক্রিকেটে ফের বড়সড় ঝড়। ইংল্যান্ড সফর থেকে মাঝপথে দলছুট হওয়ার পর এবার জাতীয় দলের দুই তারকা ক্রিকেটার মহম্মদ রিজওয়ান এবং ইमाम-উল-হকের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ করল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবির কড়া নির্দেশে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ‘প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১’ (President’s Trophy Grade-I) থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে। যার ফলে আসন্ন টুর্নামেন্টে আর মাঠে নামতে দেখা যাবে না তাঁদের।
ঠিক কী কারণে এই নিষেধাজ্ঞা? বোর্ড সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, পিসিবি এই টুর্নামেন্টের প্রতিটি দল ও খেলোয়াড়ের জন্য ফিটনেস টেস্ট পাশ করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার রিপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, মহম্মদ রিজওয়ান বা ইমাম-উল-হক— কাউকেই ফিটনেস টেস্ট দিতে দেখা যায়নি এবং নির্ধারিত রিপোর্টও জমা দেননি তাঁরা। এই নিয়মভঙ্গের খেসারত হিসেবেই দুই তারকাকে টুর্নামেন্ট থেকে বহিস্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
এর ফলে ঘরোয়া দলগুলিতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। এই টুর্নামেন্টে ‘এসএনজিপিএল’ (SNGPL)-এর সহ-অধিনায়ক ছিলেন মহম্মদ রিজওয়ান এবং নিয়মিত অধিনায়ক শান মাসুদের অনুপস্থিতিতে তাঁরই দল সামলানোর কথা ছিল। অন্যদিকে, ‘ওজিডিসিএল’ (OGDCL)-এর অধিনায়ক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল ইমাম-উল-হককে। এখন দুই দলকেই তাদের মূল অধিনায়ক ছাড়াই মাঠে নামতে হচ্ছে।
সাইবার ক্রাইম ও ফরেনসিক তদন্তের মুখে দুই তারকা শুধু ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেই নয়, বড় রকমের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখেও পড়েছেন এই দুই ক্রিকেটার। বর্তমানে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NCCIA)-র তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁদের। পিসিবির নির্দেশে লন্ডন থেকে এই দুই ক্রিকেটারেরই মোবাইল ফোন বাজোপ্ত করা হয়েছিল, যেগুলির বর্তমানে প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। পাশাপাশি, ইংল্যান্ড সফরের আগে এবং পরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সমস্ত আর্থিক লেনদেনও খুব গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী এজেন্সি।
লর্ডস টেস্টের সেই বিতর্কই কি কাল হল? ক্রীড়া মহলের একাংশের মতে, ইংল্যান্ড সফরে লর্ডস টেস্টের পারফরম্যান্স ও ঘটনার সঙ্গেই এই বিতর্কের গভীর যোগ রয়েছে। সেই ম্যাচে ব্যাট হাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিলেন রিজওয়ান, দুই টেস্ট মিলিয়ে তাঁর সংগ্রহ ছিল মাত্র ৬১ রান। অন্যদিকে, লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনেই পেশির চোটের (Calf Injury) অজুহাত দেখিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন ইমাম-উল-হক। সে সময় তীব্র গুঞ্জন উঠেছিল যে, ইংলিশ পেসারদের গতির সামনে পড়া এড়াতেই জেনেশুনেই চোটের নাটক করেছিলেন তিনি। আর সেই সমস্ত বিতর্কের রেশ ধরেই একের পর এক শাস্তিমূলক পদক্ষেপে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন পাকিস্তানের এই দুই তারকা।