মোদি-পুতিন মহাবৈঠকে ইতিহাস! ১০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বড় ঘোষণা

ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের ঠিক একদিন আগে শুক্রবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম রাশিয়ার বাইরে কোনও ব্রিকস সম্মেলনে সশরীরে যোগ দিতে ভারতে এলেন পুতিন। ফলে বিশ্ব কূটনৈতিক মহলের নজর এখন এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের দিকেই।
বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার পাশাপাশি বাণিজ্য, শিল্প সহযোগিতা, পরমাণু শক্তি, দক্ষ কর্মী আদান-প্রদান, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং সার সরবরাহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ভারত ও রাশিয়া। বর্তমানে দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার, যা প্রধানত রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির হাত ধরে অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাণিজ্যের পাশাপাশি শিল্প সহযোগিতা এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল। রেল ও টানেল নির্মাণ, ইস্পাত শিল্পের মানোন্নয়ন এবং রাশিয়ার বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়াতে দুই দেশের যৌথ অংশীদারিত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পরমাণু শক্তির ক্ষেত্র প্রসারিত করা এবং রাশিয়ায় ভারতীয় দক্ষ পেশাদারদের কাজের সুযোগ তৈরি করার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে এক বিশেষ কূটনৈতিক সৌজন্যও দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের হাতে তামিলের প্রাচীন নৈতিক গ্রন্থ ‘তিরুক্কুরল’-এর রুশ অনুবাদ উপহার হিসেবে তুলে দেন। তিন দিনের ভারত সফরে শুক্রবার দিল্লিতে পৌঁছনোর পর পুতিনকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কেভি সিং। শনিবার থেকে শুরু হতে চলা দুদিনের এই ব্রিকস সম্মেলনে খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করার মতো বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।