৯/১১-র পরেই ভারতের দর্জির ছেলের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি! সিডনি অপেরা হাউসে বিমান হানার ছক কষেছিল আল-কায়েদা?

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ক্ষত যখন বিশ্বজুড়ে তরতাজা, ঠিক তার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরের ঘটনা। ঠিক সেই সময় ভারতের মুম্বাই থেকে গ্রেপ্তার হওয়া এক সাদামাটা দর্জির ছেলের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি শুধু ভারত নয়, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও একেবারে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। তাঁর নাম মোহাম্মদ আফরোজ আব্দুল রাজ্জাক। মুম্বাই পুলিশের কাছে তাঁর দাবি ছিল, নাইন-ইলেভেনের ওই হামলার দিন কেবল আমেরিকাতেই নয়, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী স্থাপনাতেও বিমান আছড়ে ফেলার ছক কষেছিল আল-কায়েদা।
পাইলটের স্বপ্ন থেকে জঙ্গি ষড়যন্ত্রের জল্পনা
মুম্বাইয়ের চিটা ক্যাম্পের এক সাধারণ দর্জি পরিবারের সন্তান আফরোজের ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল আকাশে ওড়ার। সেই স্বপ্নকে সম্বল করেই তিনি অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন এবং টেক্সাসে গিয়ে পাইলটের প্রশিক্ষণ নেন। কিন্তু মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের জেরার মুখে আফরোজ যে বয়ান দেন, তা শুনে চক্ষু চড়কগাছ হয় সবার। তাঁর দাবি ছিল, লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার হাউস অফ লর্ডস ও ক্যানারি ওয়ার্ফ টাওয়ার এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনি অপেরা হাউসে বিমান ছিনতাই করে আত্মঘাতী হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল। এমনকি তিনি নিজেও লন্ডনের একটি বিমানে হামলার উদ্দেশ্যে হিথ্রো বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন। তবে শেষ মুহূর্তে কমান্ডারের পিছু হঠার কারণে সেই ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানো সম্ভব হয়।
আন্তর্জাতিক গোয়েন্দাদের ম্যারাথন জেরা ও প্রমাণের অভাব
এই বিস্ফোরক দাবির পর তোলপাড় শুরু হয় আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা মহলে। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের দল ভারতে এসে আফরোজকে দফায় দফায় জেরা করে। তাঁর কাছে প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমির নথি ও পাসপোর্ট মিললেও, আন্তর্জাতিক তদন্তকারীরা তাঁর এই বিশাল দাবির সপক্ষে কোনো জোরালো ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ খুঁজে পাননি।
পরবর্তীতে আইনি জটিলতা এবং কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন ‘পোটা’ (POTA) প্রত্যাহারের পর দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনে উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে আদালত তাঁকে সন্ত্রাসবাদ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়। কেবল জালিয়াতি ও নথিপত্র জাল করার দায়ে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। নাইন-ইলেভেনের বার্ষিকীতে আজও মুম্বাইয়ের এই আফরোজ রহস্য এক অদ্ভুত ও অমীমাংসিত অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে—যা হয়তো চরম এক আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ফাঁক, কিংবা এক তরুণের সুদূর প্রসারী ও নাটকীয় কল্পনা।