“শত শতাংশ ভুল ছিল সিদ্ধান্ত!” ব্লকবাস্টার হিট ‘ককটেল’ নিয়ে হঠাৎ কেন এমন অনুশোচনা সইফ আলি খানের?

বলিউডের গণ্ডি পেরিয়ে বরাবরই ছকের বাইরে হেঁটে নিজের কেরিয়ারকে ভেঙেচুরে গড়েছেন সইফ আলি খান। ‘দিল চাহতা হ্যায়’ হোক কিংবা ‘ওমকারা’ বা জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘স্যাক্রেড গেমস’— বারবার নিজের অভিনয় দক্ষতার নতুন পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তবে দীর্ঘ এই বর্ণাঢ্য কেরিয়ারে পেছনে ফিরে তাকালে এমন কিছু সিদ্ধান্তের হদিশ মেলে, যেগুলোকে আজ নিজেই ‘ভুল’ বলে স্বীকার করছেন অভিনেতা। ২০১২ সালের সুপারহিট ছবি ‘ককটেল’ এবং ২০১৪ সালের তীব্র সমালোচিত কমেডি ছবি ‘হামশকলস’ নিয়ে এক খোলামেলা ও বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিতে দেখা গেল ছোটে নবাবকে।
‘ককটেল’ ছবিতে অভিনয় কি তবে ভুল ছিল?
হিন্দি সিনেমার দর্শকরা ২০১২ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘ককটেল’-এর কথা নিশ্চয়ই ভুলে যাননি। দীপিকা পাড়ুকোন (ভেরোনিকা), ডায়ানা পেন্টি (মীরা) এবং সইফ আলি খান (গৌতম)-এর এই ত্রিকোণ প্রেমের গল্প সেই সময়ে বক্স অফিসে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এত বছর পর দাঁড়িয়ে খোদ ছবির নায়কই মনে করছেন, ওই ছবিতে অভিনয় করাটা তাঁর কেরিয়ারের একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল!
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সইফ স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘ককটেল’ ছবিতে তাঁর অভিনয় করার মূল কোনো শৈল্পিক কারণ ছিল না; একমাত্র কারণ ছিল তিনি নিজেই ছবিটির অন্যতম প্রযোজক ছিলেন। সইফের কথায়, “আমি চরিত্রটার প্রেমে পড়ে ছবিটা করিনি, করেছি যাতে প্রযোজক হিসেবে সিনেমাটা শেষ পর্যন্ত ফ্লোরে গড়ায়। এটা পুরোপুরি ভুল ছিল, শত শতাংশ ভুল সিদ্ধান্ত! বিনোদনের দিক থেকে দেখলে এটা একটা হালকা মেজাজের মজার ছবি ছিল ঠিকই, কিন্তু চিত্রনাট্যের গভীরতা বিচার করলে আমার ওই চরিত্রটি ছিল অনেকটাই রক্ষণশীল ও পিছিয়ে পড়া।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি খুব ভালোভাবেই জানতাম যে ছবির আসল এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্রটা ছিল দীপিকার অভিনীত ‘ভেরোনিকা’। কিন্তু প্রযোজক হিসেবে অনেক সময় স্বার্থের বাইরে গিয়েও এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়।”
‘হামশকলস’ নিয়ে আক্ষেপ ও ভুল কাস্টিংয়ের স্বীকারোক্তি
শুধু ‘ককটেল’ই নয়, পরিচালক সাজিদ খানের নির্দেশনায় ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া চরম সমালোচিত ছবি ‘হামশকলস’ নিয়েও অকপটে মুখ খুলেছেন সইফ। ওই ছবিতে নিজেকে সম্পূর্ণ বেমানান লেগেছিল বলে জানিয়ে অভিনেতা বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি ‘হামশকলস’-এ আমাকে কাস্ট করাটাই একটা মস্ত বড় ভুল ছিল। ওই ধরনের স্লাপস্টিক বা অদ্ভুত কৌতুক আমার স্বভাবের সঙ্গে ঠিক মেলে না। নির্দিষ্ট কিছু অভিনেতা আছেন, যাঁরা ওই ধরনের কমিক টাইমিং দারুণ সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। কিন্তু পর্দায় দর্শকদের হাসানোর জন্য যে ধরনের উন্মাদনা ও পাগলামি দরকার, হয়তো আমি নিজে সেটা বিশ্বাস করতে পারিনি বা সেভাবে পেরে ওঠেনি।” সইফের এই সৎ এবং রাখঢাকহীন স্বীকারোক্তি এখন বলিপাড়ার অন্দরে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।