যাদবপুর থেকে ‘আজাদি গ্যাং’ সাফ করার চরম হুঙ্কার! বিধানসভায় বিরাট বিল আনার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে ‘আজাদি গ্যাং’ এবং ভারতবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুংকার ছাড়লেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার কলকাতার গোলপার্ক থেকে যাদবপুর এইটবি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত আয়োজিত গেরুয়া সম্মান যাত্রার মূল মঞ্চ থেকে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ঋষি অরবিন্দ ও স্বামী বিবেকানন্দের এই পবিত্র ভূমি থেকে দেশবিরোধী স্লোগান বা গেরুয়া তাণ্ডবের মতো ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
গোলপার্ক থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রায় বিজেপি বিধায়ক ও নেতৃত্বর পাশাপাশি বহু সাধু-সন্ন্যাসী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। মিছিল শেষে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে যারা অতীতে দেশবিরোধী কার্যকলাপ কিংবা মাওবাদী সহানুভূতিশীল স্লোগান দিয়েছে, তাদের শেকড় সমেত উপড়ে ফেলা হবে। তবে এই অপসারণ বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ কীভাবে রূপায়িত হবে, সেই বিশদ খতিয়ান মঞ্চ থেকে না দিলেও তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তন আসছে।
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, বৃহস্পতিবারই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা দফতর বিধানসভায় একটি ঐতিহাসিক বিল পেশ করতে চলেছে। ক্যাবিনেটের অনুমোদন এবং রাজ্যপালের সম্মতি পাওয়ার পর এই বিল পাসের জন্য সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশেষ বিধানসভা অধিবেশন বসবে। নতুন এই আইনের মাধ্যমে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট বদলির নীতি চালু করা হতে চলেছে, যা শিক্ষাঙ্গনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া আগামী দিনে যাদবপুর এলাকায় পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ডাকে আরও দু’বার আসার ঘোষণা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেখানে নিয়মিত গীতা পাঠ এবং হনুমান চালিশা পাঠের আসর বসবে। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সহযোগিতাতেই একসময় কমিউনিস্ট শাসন এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালে তৃণমূল সরকারকে হটানো সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনে যাদবপুর ও সংলগ্ন এলাকাকে পুরোপুরি সনাতনী ভাবধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।