কবে পালিত হবে বিশ্বकर्मा পুজো? জেনে নিন সঠিক তারিখ, শুভ লগ্ন ও পুজোর সুনির্দিষ্ট সময়!

পঞ্জিকা মতে, প্রতি বছর ভাদ্রপদ মাসের সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত আনন্দ ও উল্লাসের সঙ্গে পালিত হয় বিশ্বकर्मा জয়ন্তী। নির্মাণ, স্থাপত্য এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের কাছে এই পবিত্র উৎসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনটিতে দেবশিল্পী ভগবান বিশ্বকর্মীর আরাধনা করা হয়, যাতে কর্মক্ষেত্রে উন্নতি, সুখ-সমৃদ্ধি এবং চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করা যায়। ২০ সালে বিশ্বकर्मा জয়ন্তীর সঠিক দিন এবং পুজোর শুভ মুহূর্ত জেনে নেওয়া যাক।
১৭ সেপ্টেম্বর পালিত হবে বিশ্বकर्मा জয়ন্তী
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বकर्मा জয়ন্তী আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার উদযাপিত হবে। এই বিশেষ দিনে ভগবান বিশ্বকর্মীর পুজো করার জন্য বিশেষ শুভ সময় নির্ধারিত রয়েছে। বিশ্বकर्मा পুজোর শুভ মুহূর্ত শুরু হবে সকাল ৭টা বেজে ৫৮ মিনিট থেকে এবং তা চলবে দুপুর ১২টা বেজে ৪০ মিনিট পর্যন্ত। এর পাশাপাশি, অভিজিৎ মুহূর্ত থাকবে সকাল ১১টা বেজে ৫১ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা বেজে ৪০ মিনিট পর্যন্ত। এই নির্দিষ্ট সময়গুলোর মধ্যে নিয়মনিষ্ঠা ও বিধি মেনে ভগবান বিশ্বকর্মীর পুজো করা অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়।
ভগবান বিশ্বকর্মীকে কেন এত বিশেষ মানা হয়?
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান বিশ্বকর্মীকে দেবতাদের দিব্য শিল্পকার ও বাস্তুকার হিসেবে অত্যন্ত উচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে। তাঁকে যন্ত্রবিদ্যা, স্থাপত্য ও ইমারত নির্মাণের মূল প্রণেতা বলে মনে করা হয়। এই কারণেই নির্মাণ ও কারিগরি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ভগবান বিশ্বকর্মীকে তাঁদের প্রধান আরাধ্য ও রক্ষাকর্তা দেবতা হিসেবে পুজো করে থাকেন। বিশ্বকর্ম পুজোকে অনেক জায়গায় ভাদ্র সংক্রান্তি বা কন্য সংক্রান্তি নামেও ডাকা হয়। এই বিশেষ দিনে বিভিন্ন কারখানা, দোকানপাট, কর্মক্ষেত্র এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নানা মেশিন, যন্ত্রপাতি ও কাজের সরঞ্জামের ভালো করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করে সেগুলোর পুজো করা হয়।
বিশ্বকর্মার তৈরি কিছু অবিশ্বাস্য কীর্তি
পৌরাণিক ও ধর্মীয় গ্রন্থগুলোতে ভগবান বিশ্বকর্মীর বিভিন্ন মহিমার কথা উল্লেখ রয়েছে। তাঁকে এই সৃষ্টির দিব্য স্থপতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে তিনি দেবতাদের জন্য স্বর্গলোকের মতো অপূর্ব নির্মাণের পাশাপাশি বহু ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ নগর ও প্রাসাদ তৈরি করেছিলেন। ধর্মীয় মান্যতা অনুসারে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্য দ্বারকা নগরী, পাণ্ডবদের জন্য ইন্দ্রপ্রস্থের রাজপ্রাসাদ এবং লঙ্কা রাজ্যের সোনার মহল—সবকিছুর নকশা ও নির্মাণ করেছিলেন স্বয়ং ভগবান বিশ্বकर्मा। এছাড়া দেবতাদের ব্যবহৃত বহু শক্তিশালী দিব্য অস্ত্রশস্ত্রেরও স্রষ্টা হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে।
বিশ্বকর্ম পুজোর নিয়ম ও পদ্ধতি
বিশ্বकर्मा জয়ন্তীর দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে কর্মক্ষেত্র, দোকান, কারখানা কিংবা ঘরের পুজোর স্থানটি খুব ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর একটি পরিষ্কার জায়গায় ভগবান বিশ্বকর্মীর মূর্তি বা ছবি স্থাপন করতে হবে। ভগবান বিশ্বকর্মীকে ফুল, অক্ষত, রেলি, চন্দন, ধূপ ও প্রদীপ নিবেদন করতে হবে। এরপর ফল এবং মিষ্টির ভোগ নিবেদন করে ভক্তিভরে দেবীর বা দেবতার আরতি করতে হবে। পুজোর সময় কাজের জায়গায় ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও হাতিয়ার ঠাকুরের সামনে রেখে সেগুলোরও পুজো করার নিয়ম রয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে এই দিনে কর্মসংক্রান্ত যন্ত্রপাতির পুজো করলে কাজের সমস্ত বাধা দূর হয় এবং পরিশ্রমের সেরা ফল পাওয়া যায়।
পুজোর সুফল
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান বিশ্বকর্মীর আরাধনা করলে কর্মক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ও উন্নতির বর লাভ করা যায়। বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও শিল্পীদের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভক্তদের বিশ্বাস, বিশ্বকর্মীর কৃপায় কাজে মনোযোগ ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায় এবং ব্যক্তি তাঁর মেধা ও দক্ষতার সঠিক ব্যবহার করার অনুপ্রেরণা পান। এর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে সুখ-শান্তি এবং একটি ইতিবাচক পরিবেশ বজায় থাকে।