লাল কেল্লা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল দেশ! এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এল ‘শয়তানের মা’ বিস্ফোরক ও রোমহর্ষক ষড়যন্ত্রের তথ্য

দিল্লির লাল কেল্লা বিস্ফোরণ মামলায় ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) একটি অত্যন্ত বিস্ফোরক ও বিস্তারিত চার্জশিট পেশ করেছে। এই চার্জশিটে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। তদন্তে জানা গিয়েছে, এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের মূল পাণ্ডা ডাক্তার উমর নবি নিজে সুসাইড বম্বার হিসেবে গাড়িটি উড়িয়ে দিয়েছিল।

১৩ জন অভিযুক্ত ও গাড়িতে লুকিয়ে থাকা মৃত্যুফাঁদ

এনআইএ-র পেশ করা এই চার্জশিটে মোট ১৩ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ঘটনাস্থলে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া জৈবিক নমুনার ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বিস্ফোরণের সময় উমর নবি নিজেই হুন্ডাই আই২০ (Hyundai i20) গাড়ির ভেতরে উপস্থিত ছিল। গাড়িটি মূলত একটি ভিবিআইইডি (VBIED) বা ভেহিকেল-বোর্ন ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, বিস্ফোরণে অত্যন্ত বিপজ্জনক ‘টিএটিপি’ (TATP) এবং অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা হয়েছিল।

‘শয়তানের মা’ অর্থাৎ টিএটিপির ভয়ংকর রূপ

চার্জশিটে যে বিস্ফোরকটির উল্লেখ সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তা হলো ট্রাই-অ্যাসিটোন ট্রাই-পেরোক্সাইড বা টিএটিপি (TATP), যা অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ার কারণে ‘মাদার অব স্যাটার্ন’ বা ‘শয়তানের মা’ নামে পরিচিত। সামান্য তাপ, ঘর্ষণ বা চাপে এই বিস্ফোরক মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে। এছাড়া আসামিদের কাছ থেকে লোন মুজাহিদ পকেট বুক (Lone Mujahid Pocket Book) এবং আল-কায়েদার বিভিন্ন উগ্রপন্থী ম্যানুয়ালও উদ্ধার করা হয়েছে, যা ব্যবহার করে রিমোট কন্ট্রোল মেকানিজমের মাধ্যমে এই IED সক্রিয় করা হয়েছিল।

এই পুরো ষড়যন্ত্রে সন্ত্রাসবাদীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য সিগন্যাল (Signal) অ্যাপ এবং কোড নেম ব্যবহার করত। এই ঘটনার তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্যের সন্ধান পাচ্ছে তদন্তকারী দল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *