৩০ বছরের মেগা চুক্তি! পারাদ্বীপ বন্দরে বড় চমক দিয়ে ভারতের লজিস্টিক বাজারে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আদানিরা

পূর্ব ভারতে নিজেদের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ও পরিধি আরও শক্তিশালী করতে এক মেগা পদক্ষেপ নিল আদানি গ্রুপ। দেশের বৃহত্তম এবং বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল সমন্বিত পরিবহন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড’ (APSEZ)—সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ওড়িশার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পারাদ্বীপ বন্দরের দুটি ‘ড্রাই বাল্ক বার্থ’ (CQ-I ও CQ-II) আধুনিকীকরণ এবং পরিচালনার কাজ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে।
সর্বমোট ১ কোটি ৮০ লক্ষ মেট্রিক টন (১৮ এমএমটি) ক্ষমতার এই নতুন ড্রাই বাল্ক বার্থ আদানি গোষ্ঠীর হাতে আসার ফলে এপিএসইজেড-এর মোট কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ কোটি ১০ লক্ষ মেট্রিক টন (৬৭১ এমএমটিপিএ)-এ। এর মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন টন কার্গো পরিবহনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রার দিকে আরও এক ধাপ শক্তভাবে এগিয়ে গেল সংস্থাটি। ৩০ বছর মেয়াদী এই কনসেশন বা পরিচালনা চুক্তির আওতায় প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলে বাস্তবায়িত হতে চলেছে। গভীর ড্রাফট-যুক্ত এই বার্থগুলিতে অত্যাধুনিক যান্ত্রিক কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা ও বিশাল আকারের সংরক্ষণ পরিকাঠামো গড়ে তুলবে এপিএসইজেড।
এই প্রসঙ্গে এপিএসইজেড-এর হোল-টাইম ডিরেক্টর এবং সিইও অশ্বিনী গুপ্তা জানান, “পারাদ্বীপের এই চুক্তি ভারতের পূর্ব উপকূলে আমাদের অবস্থানকে আরও বহুগুণ শক্তিশালী করবে। দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প ও খনিজ-সমৃদ্ধ পশ্চাদভূমিতে প্রবেশাধিকার সুগম হওয়ার পাশাপাশি, এই সংযোগের ফলে ১১,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা জুড়ে আমাদের বন্দর ও টার্মিনালের নেটওয়ার্ক বেড়ে ১৬টিতে উন্নীত হলো।”
উল্লেখ্য, বড় বড় ইস্পাত কারখানা এবং খনিজ সম্পদে ভরপুর পশ্চাৎভূমিতে অবস্থিত পারাদ্বীপ বন্দর হলো ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রধান বন্দর। এই টার্মিনালটি যুক্ত হওয়ায় কয়লা, চুনাপাথর এবং অন্যান্য শুষ্ক পণ্য (ড্রাই বাল্ক কমোডিটি) পরিবহনের ক্ষেত্রে আদানি গোষ্ঠীর সক্ষমতা এক লাফে অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, পূর্ব ও মধ্য ভারতের শিল্পাঞ্চলগুলির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক লজিস্টিক পরিকাঠামোকে আরও গতিশীল করে তুলবে এই নতুন মেগা প্রকল্প।