হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর বার্তা ও ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব! হাওড়ার স্কুলের শিক্ষকের কুকীর্তিতে তোলপাড়

ছাত্রীদের হোয়াটসঅ্যাপে কুরুচিকর ও আপত্তিকর বার্তা পাঠানোর এক গুরুতর অভিযোগ উঠল এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে। হাওড়ার বেলুড় হাই স্কুলের (Belur High School) ভিজুয়াল আর্টসের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসতেই গোটা এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা স্কুল পরিদর্শক দফতরও, এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
স্কুল ও অভিভাবক সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের নানাভাবে উত্তক্ত করার ও আপত্তিকর মেসেজ পাঠানোর অভিযোগ উঠছিল। এর আগেও ওই শিক্ষককে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তাতেও তাঁর আচরণে কোনও পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ। অবশেষে ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা একত্রিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিতভাবে পুরো বিষয়টি জানিয়ে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানায়।
ছাত্রীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁদের বিভিন্ন সময়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্য চাপ দিতেন। এমনকি তাঁদের মডেল বানিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছবি পাঠাতে বলা হত। এরপর সেই ছবি ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে কুরুচিকর ও অশ্লীল বার্তা পাঠানো হতো। ইতিমধ্যেই ওই শিক্ষকের চ্যাট বা স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় জনরোষ আরও তীব্র হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রীরা প্রথমে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানোর পর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই শিক্ষককে শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সমস্ত ঘটনাটি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, জেলা স্কুল পরিদর্শক বিমল কুমার গায়েন জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।