৪৫ বছরের পুরনো ‘ডাকাতি আইন’ নিয়ে চরম অস্বস্তিতে প্রশাসন! ডিজিপি ও ৬ জেলার এসপির কাছে জবাব তলব আদালতের

রাজ্যে যদি আনুষ্ঠানিকভাবে একজনও সক্রিয় ডাকাত না থাকে, তবে বিগত ৪৫ বছর ধরে চলা পুরনো ‘ডাকাতি আইন’ কেন বহাল রাখা হবে? এই জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। গোয়ালিয়র-চম্বল অঞ্চলে এই আইনের লাগাতার প্রয়োগ ও সম্ভাব্য অপব্যবহারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে মধ্যপ্রদেশের ডিজিপি এবং ছয়টি জেলার পুলিশ সুপারের কাছে জবাব তলব করেছে আদালত।

মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা এবং প্রাক্তন বিধায়ক গোবিন্দ সিং হাইকোর্টের গোয়ালিয়র বেঞ্চে ১৯৮১ সালের এই ডাকাতি আইনকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সরকার যখন খোদ বিধানসভায় স্বীকার করেছে যে রাজ্যে বর্তমানে তালিকাভুক্ত বা সক্রিয় কোনও ডাকাত দল নেই, তখন কেন গোয়ালিয়র-চম্বল অঞ্চলের সাধারণ গ্রামবাসী ও কৃষকদের বিরুদ্ধে তুচ্ছ বিবাদ বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেও এই আইনের অধীনে যত্রতত্র এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে? এমনকি, অভিযুক্তদের জামিনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে এই আইনের বিভিন্ন কঠোর ধারা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।

আবেদনকারীর আইনজীবীর পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী, গোয়ালিয়র, ভিন্ড, মোরেনা, শিউপুর ও দাতিয়া—এই ছয়টি জেলায় ‘ডাকাতি প্রতিরোধ আইন’-এর আওতায় এক হাজারেরও বেশি মামলা নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। যেহেতু রাজ্যে এখন আর কোনো সক্রিয় ডাকাত নেই, তাই এই বিশেষ আইনটির প্রাসঙ্গিকতা ফুরিয়ে গেছে এবং এটি সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করছে—এই যুক্তির ওপর ভিত্তি করেই আইনটি বাতিলের আবেদন জানানো হয়।

মামলার প্রাথমিক শুনানি এবং সমস্ত যুক্তি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার পর হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট ছয় জেলার পুলিশ সুপার, মধ্যপ্রদেশ স্বরাষ্ট্র দফতরের সচিব এবং রাজ্যের ডিজিপির কাছে নোটিশ পাঠিয়ে কঠোর ভাষায় জানতে চেয়েছে যে, এই আইনের যৌক্তিকতা ঠিক কোথায়। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *