মাত্র ৫ বছরেই বাজিমাত! ৩ লক্ষ কোটির রাজত্বে ভারতের ১১০টি স্টার্টআপ, সাফল্যের রহস্য কী?

ভারতের স্টার্টআপ দুনিয়ায় এক অভূতপূর্ব মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। ‘২০২৬ এএসকে প্রাইভেট ওয়েলথ হুরুন ইন্ডিয়া চিতা ইনডেক্স’ (2026 ASK Private Wealth Hurun India Cheetah Index) অনুযায়ী, দেশে ‘চিতা’ (Cheetah) ক্যাটাগরির স্টার্টআপের সংখ্যা বিগত ৫ বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১১০-এ দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে যখন এই সূচক প্রকাশ শুরু হয়, তখন এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৪। বর্তমানে এই ১১০টি কোম্পানির সম্মিলিত বাজারদর ৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি, যা দেশের ব্যবসায়িক মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।

‘চিতা’ স্টার্টআপ আসলে কী?হুরুন গবেষণা সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘চিতা’ হলো ২০০০ সাল বা তার পরে প্রতিষ্ঠিত এমন সব আনলিস্টেড (শেয়ার বাজারে নথিভুক্ত নয়) স্টার্টআপ, যাদের মূল্যায়ন ২০০ মিলিয়ন থেকে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে এবং যারা আগামী ৫ বছরের মধ্যে ‘ইউনিকর্ন’ (Unicorn) বা একশো কোটি ডলার মূল্যের কোম্পানিতে পরিণত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রাখে।

সাফল্যের জোয়ারে কোন কোন খাত?
আগে মূলত গতানুগতিক প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসার আধিপত্য থাকলেও, বর্তমানে নতুন প্রজন্মের এই ব্যবসাগুলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইলেকট্রিক ভেহিকেল (EV), ক্লিন-টেক এবং মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা (Aerospace & Defence) ক্ষেত্রে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী:

ফিনটেক (FinTech) ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ১৭টি স্টার্টআপ রয়েছে।

এর পরেই রয়েছে সাস (SaaS) ও ই-কমার্স (E-Commerce), যাদের সংখ্যা যথাক্রমে ১৬ ও ১২।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইলেকট্রিক যান এবং মহাকাশ গবেষণার মতো ক্ষেত্রগুলোতেও ব্যাপক বিনিয়োগ ও বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

শহরভিত্তিক পরিসংখ্যানে কোথায় সবচেয়ে বেশি স্টার্টআপ?ভারতের এই ১১০টি সম্ভাবনাময় স্টার্টআপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রয়েছে বেঙ্গালুরুতে (৩৬টি)। এরপরই জায়গা করে নিয়েছে দিল্লি-এনসিআর (২৫টি) এবং মুম্বাই (১৬টি)। এই তিনটি শহর মিলেই দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ চিতা স্টার্টআপের ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

সাফল্যের নেপথ্য কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের স্টার্টআপগুলো এখন আর শুধু সাময়িক মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে বসে নেই। বরং দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবসা গড়ে তোলার দিকে তারা বেশি মনোযোগ দিচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করার পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করছে। ইতিমধ্যেই এই কোম্পানিগুলো ভারতে ১ লক্ষ ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে।

এমন নজরকাড়া বৃদ্ধি ও সাফল্য প্রমাণ করে যে, ভারতের স্টার্টআপ জগত এখন অনেক বেশি পরিণত এবং ভবিষ্যতে বিশ্বের বুকে আরও বড় ইতিহাস গড়তে পুরোপুরি প্রস্তুত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *