মহাকাশে গোপনে ভাসছে পরমাণু বোমার উপগ্রহ? পর্দা ফাঁসের নজিরবিহীন প্রযুক্তি আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের!

পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে এবার মহাশূন্যেও ক্ষমতা দখলের লড়াই তুঙ্গে। একদিকে আমেরিকার মহাকাশ বাহিনী গঠন, অন্যদিকে চিনের নিত্যনতুন সামরিক প্রযুক্তি প্রদর্শনী—সব মিলিয়ে মহাকাশ এখন ছায়াযুদ্ধের নতুন ক্ষেত্র। এই উত্তপ্ত আবহে বিগত ছ’দশক ধরে একটি প্রশ্ন বিশ্ববাসীকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে: বিভিন্ন দেশ কি নিজেদের উপগ্রহের আড়ালে গোপনে পরমাণু অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছে মহাকাশে? পৃথিবীর অন্যতম সেরা গবেষণা সংস্থা এমআইটি-র (MIT) বিজ্ঞানীরা এবার সেই গুপ্ত পরমাণু অস্ত্র খুঁজে বের করার এক যুগান্তকারী উপায় বের করেছেন।

কীভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে গোপন পরমাণু অস্ত্র?

এমআইটি-র বিশিষ্ট পদার্থবিদ আরেগ ডেনাগুলিয়ান এবং তাঁর গবেষণা দল স্যাটেলাইট-ভিত্তিক একটি বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:

  • মহাকাশযানে থাকা ইউরেনিয়াম বা অন্য কোনো তেজস্ক্রিয় উপাদানের স্পর্শে যখন মহাজাগতিক উচ্চশক্তির প্রোটন আসে, তখন তীব্র নিউট্রন নির্গত হয়।

  • বিজ্ঞানীরা একটি মোটা বইয়ের আকারের বিশেষ ‘ডিটেক্টর সেন্সর’ তৈরি করেছেন।

  • এই সেন্সরটি প্রায় চার কিলোমিটার দূর থেকেই পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র (Warhead) থেকে নির্গত নিউট্রন সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম।

হঠাৎ বিস্ফোরণে নামতে পারে অন্ধকার:

সাধারণ কোনো কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের ভেতরে পরমাণু বোমা লুকিয়ে রাখা হলে বাইরে থেকে তা বোঝার কোনো উপায় থাকে না। বিজ্ঞানীদের মতে, মহাকাশে ভাসমান এমন কোনো পরমাণু অস্ত্রে আচমকা বিস্ফোরণ ঘটলে চোখের পলকে বিশ্বের হাজার হাজার যোগাযোগকারী ও আবহাওয়া স্যাটেলাইট ধ্বংস হয়ে যাবে। একই সঙ্গে কক্ষপথে জমা হবে টন টন বিপজ্জনক বর্জ্য, যা ভবিষ্যৎ মানব সভ্যতার মহাকাশ যাত্রাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে পারে।

চুক্তি ভঙ্গ ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা:

১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী মহাকাশে কোনো রকম মারণাস্ত্র রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে দেশগুলি এই চুক্তি মেনে চলছে কি না, তা পরীক্ষা করার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এতদিন ছিল না। ১৯৬২ সালে আমেরিকার ‘স্টারফিশ প্রাইম’ (Starfish Prime) নামক উচ্চ-উচ্চতার পরমাণু পরীক্ষার ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের ৪০০ কিমি ওপরে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটেছিল, যার প্রভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা ২৪টি স্যাটেলাইটের মধ্যে ৮টি তৎক্ষণাৎ বিকল হয়ে যায়। এমনকি মাটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে যায়।

সম্প্রতি ২০২২ সালে রাশিয়ার উৎক্ষেপণ করা ‘কসমস-২৫৫৩’ (Kosmos-2553) উপগ্রহটিতে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে বলে দাবি তোলে আমেরিকা, যদিও রাশিয়া তা অস্বীকার করে। এমআইটি-র বিজ্ঞানীদের তৈরি এই নতুন সেন্সর প্রযুক্তি মহাকাশে বসানো সম্ভব হলে সামরিক শক্তিগুলির এই লুকোচুরি খেলা এক লহমায় বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *