দুর্গাপুজোর আগে স্মৃতি ইরানির ভাইরাল ভিডিও ঘিরে নতুন বিতর্ক! নেপথ্যে লুকিয়ে কোন আসল সত্য?

আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে সোশাল মিডিয়া এবং রাজনৈতিক আঙিনায় যখন পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানির একটি পুরোনো ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে তাঁকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়ানো হচ্ছে। ভাইরাল সেই ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, স্মৃতি ইরানি নাকি দেবী দুর্গাকে অসম্মান করে নানা বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তবে সত্যতা যাচাইকারী সংস্থা ‘বুম’ (BOOM) বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, এটি একটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং অর্ধসত্য দাবি।
কী দেখা যাচ্ছে ভাইরাল ভিডিওতে?
সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে স্মৃতি ইরানিকে দেবী দুর্গা এবং মহিষাসুরকে নিয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত ও আপত্তিকর কিছু বাক্য উচ্চারণ করতে দেখা যাচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, তিনি নিজে দেবী দুর্গাকে অপমান করে এই কথাগুলো বলেছেন।
তথ্যযাচাইয়ে কী উঠে এলো?
ভিডিওটির প্রকৃত সত্য জানতে কিউওয়ার্ড সার্চ ও তথ্যানুসন্ধান চালানো হলে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লোকসভায় দেওয়া স্মৃতি ইরানির ৪৯ মিনিটের দীর্ঘ ভাষণের ভিডিওটি পাওয়া যায়। বুম যাচাই করে দেখেছে যে:
১. জেএনইউ-এর লিফলেট পাঠ: ২০১৬ সালে দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (JNU) বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির আয়োজিত ‘মহিষাসুর শহীদ দিবস’ উদযাপনের একটি বিতর্কিত প্রচারপত্র (লিফলেট) লোকসভায় পড়ে শোনাচ্ছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।
২. ভাষণেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ: ভিডিওর মূল অংশে দেখা যায়, ওই আপত্তিকর অংশটি পড়ার আগেই স্মৃতি ইরানি লোকসভার স্পিকারের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, “আমার ঈশ্বর আমাকে ক্ষমা করুন এটি পড়ার জন্য।” তিনি আসলে জেএনইউ-এর বামপন্থী ছাত্রনেতারা দেবী দুর্গাকে নিয়ে কী ধরনের মন্তব্য লিখেছিলেন, তা সংসদের কক্ষে প্রকাশ করে তাঁদের বিকৃত মানসিকতার কড়া সমালোচনা করছিলেন।
৩. নিজের ধর্মীয় অবস্থান স্পষ্টীকরণ: ওই সময় বিতর্ক তৈরি হলে স্মৃতি ইরানি নিজে সংসদে দাঁড়িয়ে পরিষ্কার জানিয়েছিলেন, তিনি নিজে একজন হিন্দু এবং দেবী দুর্গার ভক্ত। কেবল নথি হিসেবে সততা প্রমাণ করতেই তিনি জেএনইউ-এর সেই আপত্তিকর লিফলেটের লেখাটি পড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।
ভুল ও বিভ্রান্তিকর প্রচার:
২০১৬ সালে সংসদে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে দেওয়া স্মৃতির সেই বক্তব্য থেকে মূল প্রসঙ্গ বা প্রেক্ষাপট (Context) ছেঁটে ফেলে কেবল তাঁর মুখে পড়া বিতর্কিত অংশটুকুকে কেটে সোশাল মিডিয়ায় নতুন করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মনে ধারণা তৈরি হচ্ছে যেন তিনি নিজে দেবী দুর্গাকে অপমান করেছেন। আদতে স্মৃতি ইরানি জেএনইউ-তে পাওয়া লিফলেট পাঠ করে সংসদেই এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সুতরাং, তাঁর বিরুদ্ধে তোলা দেবী দুর্গাকে অসম্মানের দাবিটি পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন।