৩৫ হাজার কোটির প্রকল্পের শুভ সূচনা! গুজরাতে দাঁড়িয়ে নাম না করে কংগ্রেসকে কড়া তোপ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এক বিশাল মাইলফলক অর্জন করল ভারত। গুজরাতের ভাদোদরায় আয়োজিত ‘নমো ফর বিকশিত ভারত’ বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ওয়েস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডর’ (WDFC)-এর কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তিনি।
২৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ ও গতি শক্তি: প্রধানমন্ত্রী জানান, ২৮০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই ফ্রেইট করিডর তৈরি হওয়ার ফলে দেশের রেলপথের পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে। এর ফলে পরিবহনের সময় এবং লজিস্টিকস খরচ—দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
ভাদোদরার নাগরিকদের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের প্রশংসা করে মোদি বলেন, “লালকেল্লা থেকে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে যে ‘সপ্তধারা’ বা সাতটি সংকল্পের কথা বলা হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হল ‘গতি শক্তি’। আর ভাদোদরাই হল সেই ‘গতি শক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’-এর মূল কেন্দ্রস্থল। একবিংশ শতাব্দীর ভারতের জন্য এই ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডর সত্যিই এক ঐতিহাসিক প্রাপ্তি।”
পুরনো সরকারকে বিঁধে কড়া তোপ: ২০১৪ সালের আগের প্রশাসনিক ঢিলেমি এবং প্রকল্পের কাজ আটকে থাকা নিয়ে তৎকালীন ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই ফ্রেইট করিডরের পরিকল্পনা ২০০৪ সালেই করা হয়েছিল। ২০০৬ সালে একটি বিশেষ সংস্থাও গঠন করা হয়। কিন্তু ২০১৪ সালে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত শুধু নথিপত্র এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘোরানো ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি।”
আধুনিক রেল ব্যবস্থার নতুন মুখ: দেশের শিল্পকেন্দ্র ও প্রধান বন্দরগুলির মধ্যে সংযোগব্যবস্থা আরও মজবুত করতেই এই বিশালাকার রুট তৈরি করা হয়েছে। মোদি উল্লেখ করেন, ২০১৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁর সরকার দেশের রেলব্যবস্থাকে বদলে দিতে প্রায় ৫০ হাজার আধুনিক রেল কোচ তৈরি করেছে। এই করিডর চালুর ফলে দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক গতি অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।