লিটার লিটার জল খেয়েও মেটেনি তেষ্টা? শরীরে বাসা বাঁধেনি তো এই মারাত্নক ব্যাধি!

বারবার জল খাওয়ার পরও কি আপনার গলা-মুখ শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে? জল পানের কিছুক্ষণ পরেই আবার প্রবল তেষ্টা পাচ্ছে? তীব্র গরম বা অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রমের কারণে জলতেষ্টা পাওয়া স্বাভাবিক। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পানের পরেও যদি লাগাতার এই অনুভূতি হতে থাকে, তবে এটিকে সাধারণ বিষয় ভেবে এড়িয়ে যাওয়া একেবারেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। চিকিৎসকদের মতে, এটি শরীরে কোনো গুরুতর অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

কেন হয় এই সমস্যা? সাধারণত অতিরিক্ত ঘাম, ব্যায়াম, ডায়রিয়া বা বমির কারণে শরীর থেকে বেশি পরিমাণ তরল বেরিয়ে গেলে তেষ্টা বাড়ে। এ ছাড়া অতিরিক্ত নুন বা ঝাল খাবার, ক্যাফেইন গ্রহণ এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও বারবার জল খাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

কোন মারাত্নক রোগের লক্ষণ হতে পারে? পর্যাপ্ত জল খাওয়ার পরও যদি তেষ্টা না মেটে, তবে তার নেপথ্যে থাকতে পারে গোপন কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা:

  • ডায়াবিটিস: বারবার তেষ্টা পাওয়া এবং ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া রক্তে শর্করা বৃদ্ধির সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়লে তা প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে কিডনি। ফলে শরীর থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে যায় এবং ক্রমাগত তীব্র তেষ্টা পেতে থাকে।

  • ইলেক্ট্রোলাইটের ভাসাম্যহীনতা: শরীরে সোডিয়াম, পটাশিয়ামের ভারসাম্য বিগড়ে গেলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

  • কিডনির সমস্যা ও ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস: কিডনির কার্যক্ষমতা কমলে কিংবা বিরল শারীরিক ব্যাধি ‘ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস’-এর কারণেও শরীরে জল ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়।

কখন সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি? অতিরিক্ত তেষ্টার পাশাপাশি যদি নিচের উপসর্গগুলি দেখতে পান, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:

  • অস্বাভাবিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি

  • চোখ ঝাপসা হয়ে আসা

  • বিনা কারণে হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া

  • রাত-দিন ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া

জরুরি পরামর্শ: প্রবল তেষ্টা পেলেই একবারে এক গাদা বা এক লিটার জল খেয়ে নেওয়া একদমই উচিত নয়। খুব কম সময়ে অতিরিক্ত জল খেলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে। তাই একবারে না খেয়ে ধীরে ধীরে প্রয়োজন অনুযায়ী জল পান করুন। যদি কয়েক দিন ধরে একটানা এমন সমস্যা চলতে থাকে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্লাড সুগার ও প্রস্রাবের পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *