“ঘরে পরতে হবে শালীন পোশাক!” মেয়েদের পিজির লিভিং রুমে না জানিয়ে সিসিটিভি লাগালেন মালিক, মুম্বইয়ে চরম তোলপাড়

ঘরে কী পোশাক পরা হবে, তার ওপর নজরদারি চালাতে এবার লিভিং রুমেই সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে! ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বইয়ের একটি মেয়েদের পেয়িং গেস্ট (পিজি) আবাসন ঘিরে। তরুণীদের অনুমতি না নিয়ে, এমনকি আগে থেকে কিছু না জানিয়েই ঘরের ভেতর সিসিটিভি বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, লিভিং রুমে থাকার সময় বাসিন্দাদের ‘শালীন পোশাক’ পরার নির্দেশও দিয়েছেন ওই বাড়িওয়ালা। এই ঘটনা সামনে আসতেই গোপনীয়তার অধিকার ও সুরক্ষার প্রশ্ন তুলে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বাসিন্দারা।
ঠিক কী ঘটেছে? মুম্বইয়ের ওই ৩-বিএইচকে (3 BHK) পিজিটিতে মোট সাতজন তরুণী একসঙ্গে থাকেন। তাঁদের মধ্যে এক ভুক্তভোগী তরুণী সমাজমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে লিখেছেন, “একদিন সকালে হঠাৎ বাড়ির মালিক দরজায় কড়া নেড়ে জানান যে, তিনি আমাদের কমন লিভিং রুমের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছেন। তাঁর দাবি, এভাবে সামনাসামনি জানিয়ে দেওয়াই নাকি ‘অনুমতি’ নেওয়া!”
তরুণীদের অভিযোগ, শোওয়ার ঘরে পড়ার টেবিল না থাকায় বাধ্য হয়েই তাঁদের এই লিভিং রুমে এসে পড়াশোনা ও খাওয়াদাওয়া করতে হয়। সেখানে আচমকা ক্যামেরা বসিয়ে বাড়িওয়ালা নির্দেশ দেন, এখন থেকে লিভিং রুমে এলে ‘শালীন পোশাক’ পরেই আসতে হবে।
বাড়িওয়ালার অদ্ভুত যুক্তি ও তরুণীদের ক্ষোভ: গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ নিয়ে তরুণীরা প্রতিবাদ জানালে বাড়িওয়ালা নিরাপত্তার অজুহাত দেন। তাঁর দাবি, পুলিশি নির্দেশিকা মানতেই এই পদক্ষেপ। এমনকি পিজিতে বাইরের বন্ধুদের আসা-যাওয়া এবং জিনিসপত্র চুরি রোখার জন্যই নাকি ঘরের ভেতরে সিসিটিভি বসানো হয়েছে।
তবে তরুণীদের বক্তব্য, নিরাপত্তার জন্য ক্যামেরা যদি বসাতেই হতো, তবে ঘরের ভেতরে না বসিয়ে মূল প্রবেশদ্বারে অনায়াসে বসানো যেত। এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা তরুণী—কলেজে পড়ি বা সবে চাকরি শুরু করেছি বলে কি আমাদের যা খুশি চাপিয়ে দেওয়া হবে? নিজেদের ঘরেও কি আমরা ন্যূনতম গোপনীয়তা পাব না?”
সোশাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়: ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই ওই বাড়িওয়ালাকে ‘বিকৃত মানসিকতার’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
আইনজীবীদের মতে, ভাড়াটিয়াদের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া ঘরের ভেতর সিসিটিভি বসানো মৌলিক অধিকার ও গোপনীয়তার স্পষ্ট লঙ্ঘন। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ ওই তরুণীদের দ্রুত পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।