“রাতে ঘরে ঢুকে পোশাক খুলে ফেলাও ধর্ষণচেষ্টা নয়!”-হাইকোর্টের রায়ে শোরগোল

রাতে কোনও মহিলার বাড়িতে ঢুকে তাঁর পোশাক খুলে ফেলার মতো ঘটনাকে সরাসরি ‘ধর্ষণচেষ্টা’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এটি মূলত তাঁর শালীনতাহানি বা সম্ভ্রম ক্ষুণ্ণ করার অপরাধ এবং অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের ঘটনা—২৬ বছরের পুরোনো একটি মামলার শুনানিতে এমনটাই জানাল ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট। আদালতের এই বিস্ফোরক পর্যবেক্ষণ ঘিরে বর্তমানে আইনি মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ১৯৯৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর চাকুলিয়া থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানিতে এই রায় দিয়েছে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট। নির্যাতিতার অভিযোগ ছিল, ওইদিন রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক পোশাক খুলে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনায় ২০০৬ সালের ২৫ জুলাই ঘাটশিলা দায়রা আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন দণ্ডিত ব্যক্তি। গত ৩১ অগাস্ট রায়দান করা হলেও সম্প্রতি সোমবার তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি প্রদীপ কুমার শ্রীবাস্তব স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুসারে, ধর্ষণের চেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধ প্রমাণ করতে হলে অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ বা প্রকাশ্য কাজ থাকা আবশ্যক। আদালত জানায়, কেবল রাতে কারও বাড়িতে প্রবেশ করে পোশাক খুলে ফেলার চেষ্টা করাকে সরাসরি ধর্ষণচেষ্টা বলা যায় না। এর ভিত্তিতে নিম্ন আদালতের চার বছরের জেলের সাজা বাতিল করে হাইকোর্ট জানায়, বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন অভিযুক্ত ব্যক্তি ইতিমধ্যেই প্রায় আট মাস কারাবাস করেছেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সেটুকুই যথেষ্ট।

আদালতের এই রায়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, কোনো অপরাধকে ‘ধর্ষণচেষ্টা’ হিসেবে প্রমাণ করতে হলে শুধুমাত্র মনের উদ্দেশ্য বা অভিপ্রায় থাকা যথেষ্ট নয়, বরং অপরাধ সংঘটনের লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলি যথেষ্ট সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট হতে হবে। এই রায় প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে আইনি ব্যাখ্যা ও মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *