আমার অবসরের জন্য অপেক্ষা করছেন নাকি! আরাবল্লী মামলার শুনানিতে বেজায় চটলেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত

আরাবল্লী পর্বত সংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হলেও কাজের গতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট জমা না দিয়ে উল্টে মেয়াদবৃদ্ধির আবেদন জমা দেওয়ায় মেজাজ হারান তিনি। সাফ জানিয়ে দেন, আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা মেনেই রিপোর্ট পেশ করতে হবে, কোনওভাবেই অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না।

ঠিক কী নির্দেশ দিয়েছিল আদালত?

আরাবল্লী পর্বত নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ ফরেস্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গড়ে দিয়েছিল প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চ। যত দ্রুত সম্ভব ওই কমিটিকে রিপোর্ট পেশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছিল, চলতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কিন্তু কমিটির তরফে আদালতের কাছে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়।

মামলার শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রের পক্ষে সওয়াল করেন অ্যাডিশনাল সলিসটর জেনারেল ঐশ্বর্যা ভাটি। কমিটির এই মেয়াদবৃদ্ধির আবেদন দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “পরিষ্কারভাবে আমার অবসরের পরবর্তী কোনও সময় চাইতে পারতেন ওঁরা… মনে হচ্ছে আমার অবসরের জন্য অপেক্ষা করছেন। এটা হতে দেব না আমরা।”

এক কলমের আঁচড়ে আবেদন খারিজ

আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের ওই কমিটি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় চাইলেও, প্রথম কলমের আঁচড়েই সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে। সাফ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দিনরাত এক করে হলেও আগামী ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই নির্দিষ্ট রিপোর্ট পেশ করতে হবে। বাড়ানো হচ্ছে না কাজের মেয়াদ।

উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট যে অন্তর্বর্তী রিপোর্ট ওই কমিটি জমা দিয়েছিল, তাতে জানানো হয়েছিল যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরাবল্লীর ভৌগোলিক অবস্থান, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং সব পক্ষের তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা জরুরি। মূলত আরাবল্লী পর্বতের সঠিক সংজ্ঞা কী হবে এবং সেখানে খনি তৈরির অনুমোদন দেওয়া নিয়ে স্থানীয় স্তরে দীর্ঘ দিন ধরেই বিতর্ক ও বিরোধ জারি রয়েছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *