অমৃতসর বিমানবন্দরে রহস্যজনক ড্রোনের হানা! সাতটি ফ্লাইট ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য হল কর্তৃপক্ষ

রবিবারের রাতে পাঞ্জাবের অমৃতসরের শ্রী গুরু রাম দাস জি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অপারেশনাল এলাকায় রহস্যজনক ড্রোনের দেখা মেলায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। ড্রোনের উপস্থিতি টের পাওয়ার পরেই মুহূর্তের মধ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয় এবং নিরাপত্তার খাতিরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এর জেরে মাঝআকাশে থাকা মোট সাতটি বিমানকে অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) রুম সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ রানওয়ের কাছাকাছি সন্দেহজনক ড্রোন অ্যাক্টিভিটির তথ্য সামনে আসে। সেই সময় অমৃতসরমুখী বেশ কয়েকটি বিমান আকাশে চক্কর কাটছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অপারেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিষয়ে বিমানবন্দরের ডিরেক্টর অনিরুদ্ধ কুমার শর্মা জানান, ড্রোন দেখার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়র (SOP) সক্রিয় করা হয় এবং কন্ট্রোল টাওয়ারে একটি যৌথ অ্যাকশন কমিটি গঠন করা হয়। রাত প্রায় ৯টা ৫০ মিনিটে বিমানবন্দরের সমস্ত অপারেশন স্থগিত করা হয়। এই আকস্মিক পদক্ষেপে মোট সাতটি বিমানকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়, যার মধ্যে দুটি বিমানকে চণ্ডীগড়ে এবং বাকি পাঁচটি বিমানকে দিল্লিতে অবতরণ করানো হয়। বিমানবন্দর প্রায় ৯০ মিনিট পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাত ১১টা নাগাদ যৌথ কমিটি পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং আকাশে আর কোনো ড্রোন বা সন্দেহজনক গতিবিধি না দেখা দেওয়ায় পরিষেবা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। রাত ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
যে সমস্ত ফ্লাইট এই ঘটনার জেরে প্রভাবিত হয়েছিল, তার মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমান। অন্যদিকে, ঘুরিয়ে দেওয়া সাতটি বিমানের মধ্যে পাঁচটি পরে অমৃতসরে ফিরে আসে। তবে দিল্লিতে পাঠানো এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ, এবং মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমান সোমবার অমৃতসরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু
বিমানবন্দরের রানওয়ে এবং অন্যান্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকার কাছাকাছি এই রহস্যজনক বস্তুগুলি দেখা যাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF), পাঞ্জাব পুলিশ এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে অবিলম্বে সতর্ক করা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ এই উড়ন্ত বস্তুগুলির সুনির্দিষ্ট পরিচয় বা উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি। পুরো বিষয়টি বর্তমানে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
যেহেতু অমৃতসর বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত, তাই এই ঘটনার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফ্লাইট অপারেশন বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হলেও, এই নিরাপত্তার ত্রুটি ও ড্রোনের উৎস সম্পর্কে খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।