রান্নাঘরে মরা ইঁদুর, টয়লেটের পাশেই বাসন! কাটোয়ার জনপ্রিয় রেস্তোরাঁয় হানা দিয়ে যা দেখলেন আধিকারিকরা

রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে পা রাখতেই আধিকারিকদের চক্ষু চড়কগাছ। চারদিকে ছড়ানো ইঁদুরের মল, মেঝেতে পড়ে রয়েছে একটি আস্ত মরা ইঁদুর। আর তার পাশেই অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে চলছে খাবার তৈরির কাজ। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া পৌরসভার আচমকা এক অভিযানে শহরের একটি নামী দক্ষিণ ভারতীয় খাবারের রেস্তোরাঁ থেকে এমনই ভয়াবহ ছবি সামনে এসেছে।

কাটোয়া শহরের ব্যস্ত স্টেশন বাজার এলাকায় অবস্থিত ওই রেস্তোরাঁটিতে প্রতিদিন ধোসা, ইডলি সহ নানা মুখরোচক খাবার বিক্রি হয়। কিন্তু শুক্রবার পৌরসভার অফিসাররা সেখানে হানা দিয়ে যা দেখেন, তাতে রীতিমতো চোখ কপালে ওঠে। রান্নাঘরের ভয়াবহ দুর্গন্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে সেখানে দাঁড়ানোই মুশকিল হয়ে পড়েছিল। তদন্তে দেখা যায়, শৌচাগারের একেবারে লাগোয়া অঞ্চলেই রাখা রয়েছে ক্রেতাদের রান্নার বাসনপত্র।

পরিস্থিতি এখানেই শেষ নয়। মশলার গুণগত মান অত্যন্ত নিম্নমানের ঠেকেছে, এবং যে প্লেটগুলিতে খাবার পরিবেশন করা হয় তাতেও জমেছিল পুরনো ময়লার আস্তরণ। এরপর রেস্তোরাঁর ফ্রিজ খুলতেই আরও ভয়ঙ্কর চিত্র ধরা পড়ে। একাধিক খাদ্যসামগ্রী ও পচা শশায় ইতিমধ্যেই ছত্রাক ধরে গিয়েছিল এবং কেটে রাখা সব্জি দীর্ঘক্ষণ ধরে সেভাবেই ফেলে রাখা হয়েছিল। এই চরম অস্বাস্থ্যকর ও বিষাক্ত খাদ্যসামগ্রী অবিলম্বে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন পৌরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার।

পৌরসভার আধিকারিকদের আরও অভিযোগ, রেস্তোরাঁর ছাদে যে অস্থায়ী রান্নাঘরটি তৈরি করা হয়েছে, তাও সমস্ত নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেআইনিভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। শুধু এই রেস্তোরাঁটিই নয়, ওইদিনের অভিযানে অন্য একটি রেস্তোরাঁ থেকেও বিপুল পরিমাণ বাসি মাংস উদ্ধার করা হয়। সমস্ত বাসি খাবার তৎক্ষণাৎ নষ্ট করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে কাটোয়া পৌরসভার আধিকারিক চঞ্চলকুমার মণ্ডল স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে এভাবে কোনোভাবেই ছিনিমিনি খেলা সহ্য করা হবে না। রেস্তোরাঁগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলা বাধ্যতামূলক। প্রথমবার কড়া সতর্কবার্তা ও নোটিস পাঠানোর পর পুনরায় অভিযান চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, রান্নাঘরে মরা ইঁদুর পড়ে থাকার মতো গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়ে রেস্তোরাঁর এক কর্মীর সাফাই, ইঁদুরটি নাকি ঠিক আগের দিনই মারা গেছে এবং তা পরিষ্কার করা হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *