যেকোনো মুহূর্তে ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত পরমাণু কেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের! মধ্যপ্রাচ্যে কি তবে সর্বাত্মক যুদ্ধের দামামা?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার তীব্র উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে তেহরানের সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রে যেকোনো মুহূর্তে সরাসরি হামলার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রের কাছাকাছি পাহাড়ের গভীরে গড়ে তোলা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামের অতি-সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাটিতে আমেরিকা খুব শীঘ্রই আঘাত হানতে পারে।
মার্কিন নজরদারি সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক সেখানে নজর রাখছে উল্লেখ করে ট্রাম্প স্পষ্ট দাবি করেন, যদি ওই কেন্দ্রে কোনো ধরনের সন্দেহজনক তৎপরতা চোখে পড়ে, তবে ওয়াশিংটন অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত হানবে। তেহরান যাতে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই গত পাঁচ মাস ধরে এই সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে বলে তিনি নিজের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, আমেরিকা কঠোর অবস্থান না নিলে মধ্যপ্রাচ্য, ইজরায়েল এমনকি ইউরোপ ও আমেরিকার শহরগুলোও বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়ত।
পাহাড়ের গভীরে সুড়ঙ্গ কেটে তৈরি এই ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ মূলত প্রচলিত বিমান হামলা প্রতিরোধ করার লক্ষ্যেই নির্মাণ করেছে ইরান। বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র মারফত জানা গেছে, দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান নাতাঞ্জ কেন্দ্র থেকে হাজার হাজার সেন্ট্রিফিউজ সরিয়ে নিয়ে এই ভূগর্ভস্থ নিরাপদ দুর্গে স্থাপন করা হয়েছিল। ট্রাম্প এমন এক সময়ে এই হামলার বার্তা দিলেন যখন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সম্প্রতি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার নেটওয়ার্ক এবং হরমুজ প্রণালীতে ব্যবহৃত সামরিক পরিকাঠামোর ওপর একাধিক দফা আক্রমণ চালিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, আমেরিকার হামলায় ইরানের অত্যন্ত অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা একাধিকবার ধ্বংস হয়েছে এবং তারা সেগুলো নতুন করে বসাতেও এখন দ্বিধাবোধ করছে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনের এই ধারাবাহিক সামরিক অভিযানকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের অভিযোগ, মার্কিন হামলায় তাদের বেসামরিক পরিকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর জবাবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা বিধ্বংসী আঘাত হানার দাবি করেছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও আক্রমণের ঘটনায় পুরো অঞ্চলে এক সর্বাত্মক ও বিধ্বংসী সংঘাতের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হয়ে উঠেছে।