মৃত্যুর আগে ডায়েরিতে কী লিখেছিলেন মহানায়ক? উত্তম কুমারের শেষ জীবনের সেই রহস্য আজও গায়ে কাঁটা দেয়!

গতকাল ৩ সেপ্টেম্বর মহাসমারোহে পালিত হয়েছে বাঙালির মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মবার্ষিকী। এবছর রাজ্য সরকারের উদ্যোগে মহা ধুমধামে পালিত হয়েছে তাঁর জন্মশতবার্ষিকী। প্রয়াণের ৪৬ বছর পরেও বাংলা সিনেমা প্রেমীদের মননে উত্তম কুমার নামটি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও উজ্জ্বল। তবে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে আজও এই চার দশক পরেও দানা বেঁধে রয়েছে এক গভীর রহস্য। সবার মনেই প্রশ্ন জাগে, নিজের জীবনের শেষ দিনগুলোর কথা কি তিনি আগেই টের পেয়েছিলেন?
১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই রাত সাড়ে নটা নাগাদ প্রয়াত হন মহানায়ক। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মেঘলা দিনের মনখারাপ নিমেষে স্তব্ধ করে দিয়েছিল গোটা বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে। তাঁর এহেন হঠাৎ প্রয়াণ মেনে নিতে পারেননি কেউই। কিন্তু উত্তম কুমার নিজে কি মৃত্যুর কোনো পদধ্বনি আগে থেকেই টের পেয়েছিলেন? এই প্রশ্নের সূত্রপাত হয়েছে তাঁর নিজের হাতের একটি ডায়েরিকে কেন্দ্র করে।
সবসময় নিজের সঙ্গে একটি ডায়েরি রাখতেন উত্তম কুমার। কোন ছবির শুটিংয়ের তারিখ কী, আসন্ন ছবির নাম বা মুক্তির দিনক্ষণ—সমস্ত জরুরি তথ্য সেখানে নিজের হাতে লিখে রাখতেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পরেই সামনে আসে এই ডায়েরিটি, যার নেপথ্যের কাহিনি সত্যি গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো। দেখা যায়, ১৯৮০ সালে অর্থাৎ যে বছর তিনি মারা যান, সে বছরের ২৩ জুলাই পর্যন্ত সমস্ত দিনলিপি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লিখে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু অদ্ভুতভাবে ফাঁকা রাখা হয়েছিল ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ২৪ জুলাইয়ের পাতাটি!
রহস্যের এখানেই শেষ নয়। এরপর ২৫ শে জুলাইয়ের পাতায় ডায়েরিতে তিনি লিখেছিলেন ‘বাঞ্ছারামের বাগান’ নামটি, যা পরবর্তীতে পেনের এক আঁচড়ে নিজেই কেটে দিয়েছিলেন তিনি। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ২৬ জুলাইয়ের পর থেকে ডায়েরির বেশ কয়েকটি পাতায় আগে থেকেই ‘বিশ্রাম’ এবং ‘চিরবিশ্রাম’—এই দুটি শব্দ লিখে রেখেছিলেন মহানায়ক।
কেন তিনি এমনভাবে আগে থেকেই ‘চিরবিশ্রাম’-এর কথা লিখে রেখেছিলেন? তবে কি তিনি শারীরিক অসুস্থতা বা অবসাদের কথা আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন? নাকি মৃত্যুর অমোঘ সত্যকে তিনি আগেই কোনো অলৌকিক ইশারায় টের পেয়েছিলেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আজও কেউ দিতে পারেনি। সমস্ত জল্পনা আর একরাশ রহস্য বুকে নিয়েই চিরকালের মতো পর্দা নামিয়েছিলেন বাঙালির অমর মহানায়ক।