খাবারের উজ্জ্বল রংই ডেকে আনতে পারে ক্যানসার! পুজোর মুখে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে চাঞ্চল্য

আসন্ন পুজোর মরসুমের আগেই খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে চরম সতর্কবার্তা জারি করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পুজোর বাজারে চোখধাঁধানো রঙের মিষ্টি কিংবা উজ্জ্বল রঙের সবজি দেখলেই তা ভালো মানের—এমনটা ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। খাবারকে আরও বেশি লোভনীয় ও আকর্ষণীয় করে তুলতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসতেই এবার অত্যন্ত কড়া অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারে এমন কারসিনোজেনিক রং খাবারে মেশানো কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বর্তমানে সরকারের বিশেষ নজরে রয়েছে বিভিন্ন মিষ্টির দোকান এবং বাজারের খোলা মশলার বাজার। জিলিপি, হরেক রকমের রঙিন মিষ্টি এবং বিশেষ করে হলুদ রঙের মিষ্টিতে কৃত্রিম রং ব্যবহারের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। একই অভিযোগ উঠেছে খোলা হলুদ গুঁড়ো ও লঙ্কার গুঁড়ো বিক্রির ক্ষেত্রেও। এই ধরনের ভেজাল ও ক্ষতিকর কারবার রুখতে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এবং বিভিন্ন বাজারে ঘটনাস্থলেই খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তবে কেবল মিষ্টি বা মশলাতেই সীমাবদ্ধ নয় এই নজরদারি। মাছ, চিকেন এবং পানীয় জলের গুণমান নিয়েও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। যেকোনো খাবারের ক্ষেত্রে যদি স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিক উজ্জ্বল রং দেখতে পাওয়া যায়, তবে ক্রেতাদের অবিলম্বে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাজার থেকে সবজি কেনার সময়ও বাড়তি নজরদারি বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। আলু, রাঙা আলু এবং পটলের মতো দৈনন্দিন রান্নার সবজিতেও কৃত্রিম রং ও পালিশ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ফলে শুধুমাত্র দেখতে সুন্দর বা টাটকা মনে হচ্ছে বলেই সেই সমস্ত সবজি কিনে বাড়ি চলে যাওয়া উচিত নয়। খাবারের নিজস্ব স্বাভাবিক রং এবং গুণমান সম্পর্কে ক্রেতাদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যেও কড়া বার্তা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, উৎসবের মরসুমে ব্যবসার লাভ বাড়াতে গিয়ে খাদ্যের মানের সঙ্গে কোনোভাবেই আপস করা চলবে না। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাপদ খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, বাইরে খাবার খাওয়ার সময় সস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো খাদ্যপণ্য কেনার সময় খাদ্য নিরাপত্তার মানদণ্ড হিসেবে FSSAI-এর অনুমোদন যুক্ত পণ্য বা প্যাকেট বেছে নেওয়ার কথাই বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে প্রশাসন। পুজোর আনন্দের জোয়ারে রঙিন ও লোভনীয় খাবারের আকর্ষণে যেন কারোর স্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনোভাবেই ছিনিমিনি খেলা না হয়, সেটাই এখন রাজ্য প্রশাসনের প্রধান বার্তা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *