ভালো করতে গিয়ে নিজেই বিপদে পড়বেন না তো? এই ৪ ধরনের মানুষকে ভুলেও পরামর্শ দেবেন না!

কাজে চলার পথে অনেকেই অন্যকে ভালোবেসে বা উপকারে লেগে যাওয়ার তাগিদে নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু সেই উপদেশ যদি ভুল মানুষের কানে যায়, তবে উপকারের বদলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। প্রাচীন ভারতের মহান নীতিশাস্ত্রবিদ আচার্য চাণক্য বহু আগেই সতর্ক করে গেছেন যে, সমাজের সবাই উপদেশ শোনার পাত্র নন। ভুল ব্যক্তিকে পরামর্শ দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে এবং উপদেশদাতাই বড় বিপদে পড়তে পারেন। তাই জেনে নিন চাণক্য নীতি অনুসারে ঠিক কোন চার ধরনের মানুষকে ভুলেও পরামর্শ দেওয়া উচিত নয়।
১. যিনি কথা বুঝতেই চান না: অনেকেই সত্য বা গঠনমূলক সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না। নিজের ভুল ঢাকতে তাঁরা অন্যের ভালো পরামর্শও স্রেফ এড়িয়ে যান বা অবহেলা করেন। চাণক্যর মতে, এই জাতীয় মানুষদের উপদেশ দিয়ে নিজের বহুমূল্য সময় নষ্ট করা সম্পূর্ণ বৃথা। বরং পিছু হঠাই শ্রেয়।
২. কথায় কথায় তর্ক করা মানুষ: কিছু মানুষ সবকিছুতেই নিজের জেদ বজায় রাখতে পছন্দ করেন। উপদেশ দিলেই যাঁরা অহেতুক তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং অশান্তি বাড়ান, তাঁদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাই ভালো। এমন ক্ষেত্রে চুপ থাকাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. যেখানে সম্মানের বালাই নেই: যে মানুষটি আপনার কথার বা ব্যক্তিত্বের ন্যূনতম সম্মান দিতে জানে না, তাঁকে কখনোই নিজের মূল্যবান মতামত বা পরামর্শ দিতে যাবেন না। উল্টো অপমানিত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে এই ধরনের সঙ্গ এড়িয়ে যাওয়াই সংগত।
৪. পরিস্থিতি না জেনে মন্তব্য: সামনে বসা ব্যক্তির ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সংকটের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট না জেনে হুট করে কোনো উপদেশ দেওয়া উচিত নয়। তথ্য বা পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকলে সেই পরামর্শ কোনো উপকারে তো আসেই না, বরং ভুল বোঝাবুঝির ক্ষেত্র তৈরি করে।
পাশাপাশি, জীবনের বহু জটিলতা এড়াতে মুখের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন আচার্য চাণক্য। তাঁর মতে, অতিরিক্ত রাগের সময়, পারিবারিক অশান্তির মুহূর্তে এবং পরনিন্দা বা সমালোচনার আসরে সবসময় নিজের কথা ও মুখের ওপর সংযম বজায় রাখা জরুরি।