জিও সিম বা ব্রডব্যান্ড ছাড়াই ব্যবহার করা যাবে jioPC! পুরনো কম্পিউটারেই মিলবে ১৬ জিবি র্যাম ও ১ টিবি স্টোরেজ

বাড়তি কোনো হার্ডওয়্যার ছাড়াই ক্লাউডের মাধ্যমে কম্পিউটিং ক্ষমতা বাড়িয়ে নেওয়ার এক অভিনব সুযোগ নিয়ে এল রিলায়েন্স জিও। এতদিন এই পরিষেবা শুধুমাত্র জিওহোম ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীদের জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার সেই নিয়ম বদলে জিওপিসি (JioPC) পরিষেবা সমস্ত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর জন্যই উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এর জন্য আলাদা করে কোনো জিও সিম বা জিও ব্রডব্যান্ড কানেকশনের প্রয়োজন নেই। যেকোনো কোম্পানির ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই এই পরিষেবা অনায়াসে ব্যবহার করা যাবে।
জিওপিসির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, নতুন কম্পিউটার কেনার ঝামেলায় না গিয়ে ক্লাউড প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন মতো ১৬ জিবি পর্যন্ত র্যাম এবং ১ টিবি পর্যন্ত স্টোরেজ পেয়ে যেতে পারেন। ৩ থেকে ৪ বছর পুরনো কম্পিউটার স্লো হয়ে গেলে বা স্টোরেজ ফুরিয়ে গেলে নতুন ডিভাইস কেনার খরচ বাঁচিয়ে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিক কম্পিউটিংয়ের অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব। সংস্থার দাবি, এটি সাধারণ মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত সাশ্রয়ী একটি বিকল্প।
বর্তমান যুগে শিক্ষা, চাকরি বা ব্যবসার ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই (AI)-এর ব্যবহার হু হু করে বাড়ছে। কিন্তু এআই-ভিত্তিক ভারী সফটওয়্যার চালানোর জন্য সাধারণত শক্তিশালী প্রসেসরযুক্ত কম্পিউটারের প্রয়োজন হয়। জিওপিসির অধিকাংশ প্রসেসিং ক্লাউডে হওয়ায় কম ক্ষমতার পুরনো কম্পিউটারও অনায়াসে আধুনিক এআই অ্যাপ্লিকেশন চালাতে সক্ষম। জিও জানাচ্ছে, প্রায় ৮ বছরের পুরনো কম্পিউটারকেও এই পরিষেবার মাধ্যমে এআই ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা সম্ভব, যার ফলে ছাত্রছাত্রীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবে।
খুব বেশি টেকনিক্যাল জ্ঞান ছাড়াই মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে এই পরিষেবা অ্যাক্টিভেট করা যায়। জিওপিসি মূলত দুটি পৃথক প্ল্যান অফার করছে— সাধারণ জিওপিসি এবং জিওপিসি আলট্রা। সাধারণ প্ল্যানে ৮ জিবি র্যাম ও ৫০০ জিবি স্টোরেজ পাওয়া যায় এবং জিওপিসি আলট্রা প্ল্যানে রয়েছে ১৬ জিবি র্যাম ও ১ টিবি স্টোরেজ। দুই মাসের জন্য জিওপিসির দাম ১০০০ টাকা এবং আলট্রার দাম ১২০০ টাকা। এছাড়াও এক বছরের প্ল্যানে যথাক্রমে ২০০০ টাকা এবং ২৫০০ টাকা খরচ পড়বে। ক্লাউড-ভিত্তিক এই পরিষেবা নির্বিঘ্নে উপভোগ করতে একটি স্থিতিশীল ইন্টারনেট কানেকশন থাকা অত্যন্ত জরুরি।