“গতকাল কাকে কী বলেছিলাম ভুলে গেছি, আজ শুধু উত্তম কুমার!” নন্দন চত্বরে বসে গেল তারার মেলা

পৃথিবী না বদলালেও রাজ্যের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের চেনা সমীকরণ যে অনেকটাই বদলে গিয়েছে, তার প্রমাণ মিলল নন্দনের মঞ্চে। উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে গান গাইলেন কৌস্তভ চট্টোপাধ্যায় এবং রাজ চক্রবর্তী। অথচ মাত্র কয়েক মাস আগের বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ে এই দুই মুখই একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক কটাক্ষে মেতেছিলেন। সেই তিক্ততা দূরে সরিয়ে মহানায়কের সিনেমার গানে তাঁদের গলা মেলানোর দৃশ্য এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নন্দন চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং মিঠুন চক্রবর্তী। শোভাযাত্রার প্রথম সারিতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি পা মেলাতে দেখা যায় জিৎ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, ইন্দ্রানী হালদার, বিশ্বনাথ বসু, অপরাজিতা আঢ্য, অঞ্জনা বসু, রাজ চক্রবর্তী এবং শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে। এছাড়া কেক কাটার পর্বে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, মমতা শঙ্কর, চিরঞ্জীত চক্রবর্তী, সন্দীপ রায়, হরনাথ চক্রবর্তী এবং সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে তারকাদের এই জমায়েত। একসময়ে যাঁদের শাসকদলের বিভিন্ন মঞ্চে বা প্রচারে দেখা যেত, তাঁদের অনেকেই এদিনের সরকারি অনুষ্ঠানে হাজির হন। রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে গান গাওয়ার পর কৌস্তভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রাজ চক্রবর্তী আমার বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু উনি তো ইন্ডাস্ট্রির একজন। সেখানে আমরা-ওরা বিভাজন কেন রাখব? মুখ্যমন্ত্রী সাংস্কৃতিক জগতে এই বিভেদ রাখতে চান না। এটা রাজনৈতিক মঞ্চ নয়, সাংস্কৃতিক মঞ্চ।” অনুষ্ঠান শেষে কাঞ্চন মল্লিক সস্ত্রীক এসে কৌস্তভকে তাঁর গানের জন্য প্রশংসাও করেন।

শিল্পীদের এই মিলনমেলায় টলিউডের অগ্রগতির জন্য বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, টলিউডের সুদিন ফেরাতে রাজ্য সরকার সবসময় শিল্পীদের পাশে থাকবে। বাজেট, ছাড়পত্র বা আইন সংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজনে সরকার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। সব মিলিয়ে, রাজনীতির সীমানা ছাড়িয়ে উত্তম কুমারের স্মৃতিচারণায় এক অন্য সন্ধ্যার সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *