মিঠুন চক্রবর্তীর জন্য বড় দায়িত্বের ঘোষণা! ২৫ কোটির মেগা প্রকল্পের ঘোষণা শুভেন্দুর

টলিপাড়ার মেগাস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের রাজনীতিতে যোগদান নিয়ে চলা সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি প্রসেনজিতের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘিরে নানা মহলে রাজনৈতিক গুঞ্জন শুরু হলেও, খোদ মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি ছিল না। মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ যাতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়, সেই আবেদন জানাতেই মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিনেতা।
বৃহস্পতিবার উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কত গল্পই না সংবাদমাধ্যমে লেখা হয়েছিল— প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় কি রাজনীতিতে আসছেন? তিনি কি আমাদের দলে নাম লেখাচ্ছেন? কিন্তু শুনে রাখুন, প্রসেনজিতের একমাত্র এজেন্ডা ছিল মহানায়কের শতবর্ষ উদযাপন।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভারত সরকারের কাছ থেকে পদ্ম পুরস্কার প্রাপ্ত এই প্রবীণ অভিনেতা নিজের জন্য কোনো চাওয়া-পাওয়া নিয়ে তাঁর কাছে যাননি। বরং পুরো কর্মসূচিটির ‘ঋত্বিক’ বা পথপ্রদর্শক হিসেবে তিনি এই উদ্যোগের সফল রূপায়ণ চেয়েছিলেন।
একই অনুষ্ঠানে টলিউডের মহাতারকা মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, খুব শীঘ্রই মিঠুন চক্রবর্তীকে রাজ্য সরকারের ‘কালচারাল অ্যাডভাইজার’ বা সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা হিসেবে সামনে আনা হবে।
পাশাপাশি রাজ্যের চলচ্চিত্র জগতের পরিকাঠামো উন্নয়নে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’ তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পে তিনটি আলাদা অংশ থাকছে। প্রথম অংশে ৭৫০ আসনের দুটি সিনেমা হল, ফুড কোর্ট ও পার্কিং জোন এবং দ্বিতীয় অংশে এক হাজার আসনের অডিটোরিয়াম ও ওপেন এয়ার থিয়েটার নির্মিত হবে। পাশাপাশি অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্ট, কমিকস এবং পোস্ট-প্রোডাকশনের জন্য বিশেষ স্টুডিও ল্যাবও তৈরি করা হবে। ইতিমধ্যেই সাইট সিলেকশন ও মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্ষা কাটলেই নির্ধারিত এজেন্সির মাধ্যমে জোরকদমে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।