যেসব কারণে ব্যবহার করবেন মাটির পাত্র, বিস্তারিত জানতে পড়ুন

সভ্যতার উন্নতির কারণে বিলুপ্তের পথে মাটির পাত্র। দৈনন্দিন জীবনের কাজে এখন বাসন-কোসনে শোভা পাচ্ছে প্লাস্টিক, মেলামাইন, কাচ অথবা সিরামিকের তৈজসপত্র। কিন্তু আপনি কী জানেন, লাইফস্টাইলের এ বদলে আপনি কিছু জাদুকরী গুণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মাটির পাত্র প্রাচীনকালে আমাদের দেশে অনেক ব্যবহৃত হতো। ঐতিহ্যবাহী এ পাত্র দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি এর রয়েছে স্বাস্থের অনেক  উপকারিতাও। এগুলো হলো-

খাবারকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে
মাটির পাত্র তৈরিতে ব্যবহৃত কাদামাটি প্রকৃতিতে ক্ষারীয় বলে পরিচিত, যা খাবারের অ্যাসিডের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে এবং পিএইচ স্তরকে নিরপেক্ষ করে। ফলে খাবার সহজে হজম হয় এবং এর পুষ্টি অক্ষত থাকে।

তেল লাগে কম
মাটির পাত্রে রান্নার সময় তেল কম লাগে। ধীরগতিতে রান্না ও তাপ নিরোধক হওয়ায় এটি খাবারের প্রাকৃতিক তেল ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

স্বাদ ও গন্ধ অটুট রাখে
খাদ্যের পুষ্টিমান বজায় রেখে স্বাদ ও গন্ধ অক্ষুণ্ন রাখে বা বাড়িয়ে দেয় মাটির পাত্র। অন্যান্য উপাদানের তৈজস দিয়ে এটা সম্ভব নয়।

দুগ্ধজাত খাবারের জন্য উপযুক্ত
মাটির পাত্র দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার সংরক্ষণের জন্য খুবই নিরাপদ। এর কারণ হলো মাটির একটি শীতল প্রভাব রয়েছে এবং এটি দুধকে টক হতে বাধা দেয়। এছাড়া যখন মাখন এবং দইয়ের মতো খাবার মাটির পাত্রে রাখা হয়, তখন এটি একটি সুগন্ধ দেয়, যা তাদের সম্পূর্ণ তাজা করে তোলে। আজকাল অনেকেই কাপে চা-কফি পান করতে পছন্দ করেন, কারণ এটি তাদের স্বাদকে অনন্য করে তোলে।

তাপ প্রতিরোধী
উচ্চ তাপে মাটির পাত্র রাখলেও তা ভেঙে যায় না। মাটির পাত্রগুলো উচ্চতাপে পুড়িয়ে বানানো হয় বলে এটি অনেকটা তাপপ্রুফ হয়ে ওঠে। তা ছাড়া এটি তাপ প্রতিরোধী বলে পরিচিত। এগুলো আপনার খাবারকে দীর্ঘ সময়ের জন্য গরম রাখতে পারে।

মাইক্রোওয়েভ প্রুফ
বেশির ভাগ মাটির পাত্রই মাইক্রোওয়েভে ব্যবহার করা যায়। মাইক্রোওয়েভে মাটির পাত্র রাখলে উচ্চ তাপমাত্রার সংস্পর্শে এলে কোনো ক্ষতিকর গ্যাস বের হয় না, যা প্লাস্টিকের ক্ষেত্রে ঘটে।

কাচের পাত্র থেকে ভালো
কাচের পাত্র ব্যবহারে অনেক বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। এটার পড়ে ভেঙে গেলে হাত-পা কাটার সম্ভাবনা থাকে। সেদিক দিয়ে মাটির পাত্র অনেক বেশি নিরাপদ। এটা থেকে শরীর কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *