বড় সাইজের ইলিশ কিনে দাম না দিয়েই চম্পট মহিলা! বাজারের এই অভিনব কায়দা দেখে হতবাক সকলে

ভরা বাজারে পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন ব্যবসায়ীরা। থলে হাতে বাজারে এসে হাজির হন এক বয়স্ক মহিলা। সোজা এক দোকানে ঢুকে দাবি জানান বড় সাইজের ইলিশ মাছের। যদিও সেই দোকানে ছোট পুটি, ট্যাংরা ও পারসে মাছ বিক্রি হচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাশের দোকানের এক ব্যবসায়ী এগিয়ে আসেন। বরফ থেকে বের করে তিনি ওই মহিলার জন্য দেড় কেজি ওজনের একটি ইলিশ মাছ বের করেন, যার দাম চাওয়া হয় ৩৭০০ টাকা।
মাছ পছন্দ হওয়ার পর মহিলা জানান, মাছটি তিনি কিনবেন কিন্তু এই মুহূর্তে তাঁর কাছে নগদ টাকা নেই। টাকা আনতে তিনি বাড়ি যাবেন এবং বাজারের বাইরে তাঁর রিকশা দাঁড় করানো রয়েছে। সরল বিশ্বাসে এক ব্যবসায়ী তাঁর সঙ্গে রিকশায় ওঠেন। বাজারের বাইরে সত্যি একটি রিকশা দাঁড় করানো ছিল এবং চালকও ছিলেন এক বয়স্ক ব্যক্তি। মহিলা এমনভাবে ওই চালকের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন, দেখে মনে হচ্ছিল তাঁরা দীর্ঘদিনের পরিচিত।
মধ্যমগ্রামের একটি কাঠগোলার সামনে রিকশা দাঁড় করিয়ে মহিলা নিচে নেমে পড়েন। ব্যবসায়ীও তাঁর সঙ্গে নামেন টাকা নেওয়ার আশায়। কিন্তু সেখানে কোনো দোকান না থাকায় মহিলা জানান, তাঁর জামাকাপড়ের দোকানটি আরও ভেতরে রয়েছে। তিনি ফোনে কথা বলতে বলতে ব্যবসায়ীকে নির্দেশ দেন রিকশায় চেপে নির্দিষ্ট দোকানে গিয়ে ৪২০০ টাকা নিয়ে আসতে—যার মধ্যে ৪০০ টাকা মাছের দাম এবং ২০০ টাকা রিকশাচালকের ভাড়া।
ব্যোক্তিবাদী ওই ব্যবসায়ী নির্দেশমতো রিকশায় চেপে গন্তব্যে পৌঁছান। দোকানটি সত্যিই সেখানে ছিল, কিন্তু সেটি ওই মহিলার ছিল না। তখনই টনক নড়ে ব্যবসায়ীর। তিনি দ্রুত রিকশা ঘুরিয়ে কাঠগোলার মোড়ে ফিরে আসেন, কিন্তু ততক্ষণে মহিলা উধাও। ৩৭০০ টাকার ইলিশ মাছ তো বটেই, সঙ্গে রিকশার ভাড়ার টাকাও খোয়াতে হয় ব্যবসায়ীকে।
ঘটনার পর হতবাক ওই ব্যবসায়ী বলেন, দোকানদারি করতে গেলে অনেক সময় বিশ্বাসের ওপর ভরসা করতেই হয়। বাজারে এমন ঘটনা নতুন নয়, তবে এমন নিখুঁত চতুরতা তিনি আগে কখনও দেখেননি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, ওই মহিলাকে এর আগে বাজারে কখনও দেখা যায়নি। মধ্যমগ্রামের এই ঘটনা এখন সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।