ধ্বংসস্তূপের মাঝে পোষ্যের বুকফাটা অপেক্ষা! নেপালের ভয়ংকর বিপর্যয়ের এই ছবি দেখলে চোখে জল আসবেই!

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারানোর ক্ষত এখনও টাটকা। বিপর্যয় কেটে যাওয়ার পর বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেলেও সেখান থেকে উঠে আসছে একের পর এক মন খারাপ করা দৃশ্য। কোথাও ধুলিস্যাৎ হয়ে যাওয়া বাড়ির সামনে নির্বাক চোখে বসে রয়েছে পোষ্য কুকুর, আবার কোথাও প্রিয়জনের ফিরে আসার আশায় পথ চেয়ে বসে রয়েছে দিশাহারা পরিবার। এর মধ্যেই ত্রিশুলি বাজারের এক ধ্বংসস্তূপে একটি কালো-সাদা কুকুরের একাকী অপেক্ষার ছবি গোটা বিপর্যয়ের এক মর্মান্তিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের মাঝে পোষ্যের না বলা বেদনা:
জানা গিয়েছে, যে জায়গায় একসময় কুকুরটির বাড়ি ছিল, এখন সেখানে কেবলই ইট-পাথরের স্তূপ। কিন্তু তারপরও সে ওই জায়গা ছেড়ে এক পা নড়ছে না। উদ্ধারকর্মীরা চারপাশ পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে গেলেও অবলা প্রাণীটি তার চিরচেনা ঠিকানায় মালিকের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, কুকুর মানুষের মতো নিখাদ হাহাকার হয়তো বুঝতে পারে না, তবে চেনা গন্ধ, জায়গা এবং মানুষটিকে তারা ঠিক চেনে। তাই পরিচিত সেই মাটির টানে তার এভাবে বসে থাকার দৃশ্যটি পাথর কঠিন মনকেও গলিয়ে দিতে যথেষ্ট।
ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে চরম চ্যালেঞ্জ:
গত ২৬ আগস্টের হড়পা বান ও প্রবল জলের স্রোতে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় যে তাণ্ডব চলেছিল, তাতে বহু বাড়ি, সেতু ও রাস্তা সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও অনেক জায়গায় বন্যার জল নেমে গিয়েছে, তবুও বিপদ কাটেনি। ধ্বংসস্তূপ ও সুড়ঙ্গের ভিতর আটকে থাকা নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে এখন দিনরাত এক করে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে সুড়ঙ্গের ভিতরের বিপজ্জনক পরিস্থিতি ও কাদামাটির কারণে উদ্ধারকাজে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
ভবিষ্যতের বড় ঝুঁকির আশঙ্কা:
বিশেষজ্ঞদের মতে, জল নেমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে বিপদ শেষ। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে আলগা হয়ে যাওয়া মাটি নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি করছে। পাহাড়ি নদী ও নিকাশি ব্যবস্থা কাদা-পাথরে আটকে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এই বিপর্যয় ফের একবার মনে করিয়ে দিচ্ছে হিমালয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত ঝুঁকির কথা।
ধ্বংসস্তূপের মাঝে বসে থাকা সেই কুকুরটি যেমন এখনও বিশ্বাস করে তার মালিক ফিরে আসবে, ঠিক তেমনই নেপালের হাজার হাজার মানুষও বুক বেঁধে অপেক্ষা করে আছেন—যদি কোনোভাবে অলৌকিকভাবে ফিরে আসে তাঁদের নিখোঁজ আপনজনেরা।