প্রিয় বিরিয়ানি খাচ্ছেন নাকি বিষ? চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতেই চোখ কপালে তুলবে সবার!

বিরিয়ানি ভালোবাসেন না, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। জিভে জল আনা সেই সুগন্ধ আর চালের হলুদ আভা দেখেই তো ফ্যাকাশে খিদে চনমন করে ওঠে। কিন্তু যে বিরিয়ানি আপনি পরম তৃপ্তিতে খাচ্ছেন, তার স্বাদ ও রং বাড়াতে আদতে কী মেশানো হচ্ছে, তা জানলে ভয়ে শিউরে উঠতে হয়। বাঙালির অতি প্রিয় এই খাবারেও এবার ভয়ংকর ভেজালের হদিশ মিলল। মানুষের খাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত এবং বিষাক্ত রাসায়নিক রঙ মিশিয়ে বিরিয়ানি বিক্রির চাঞ্চল্যকর চিত্র ধরা পড়ল হুগলির রিষড়ায়।

খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা সম্প্রতি রিষড়ার একটি জনপ্রিয় বিরিয়ানির দোকানে আচমকা অভিযান চালান। আর তাতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। দোকানের অন্দরে তল্লাশি চালিয়ে আধিকারিকরা দেখতে পান, বিরিয়ানিতে হলুদ বা সোনালি আভা আনার জন্য যে রঙ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা সাধারণ কোনো খাদ্যোপযোগী রঙ নয়।

তদন্তে আরও মারাত্মক তথ্য সামনে আসে। আধিকারিকরা দেখেন, যে রঙটি বিরিয়ানিতে মেশানো হচ্ছিল, তা আসলে এক ধরনের ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল কালার’ বা শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের রঙ, যা সাধারণত কাঠ কিংবা গ্রিলে রং করার কাজে ব্যবহার করা হয়। ওই রঙের প্যাকেটের গায়ে স্পষ্ট ও বড় বড় হরফে লেখা রয়েছে— ‘নট ফর হিউম্যান কনজামশন’ অর্থাৎ মানব দেহের পক্ষে এটি মারাত্মক ক্ষতিকর। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক মানুষের পেটে গেলে ক্যানসারের মতো মারাত্মক মারণ রোগ পর্যন্ত হতে পারে।

দৃশ্যটির ভয়াবহতা দেখে সঙ্গে সঙ্গে ওই বিরিয়ানির দোকানদারকে ভর্ৎসনা করেন আধিকারিকরা এবং তৎক্ষণাৎ কড়ায় থাকা সমস্ত রঙিন বিরিয়ানি ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে যাতে তাঁরা এই সমস্ত ক্ষতিকর খাবার থেকে দূরে থাকেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও কঠোরভাবে সতর্ক করা হচ্ছে। যাঁরা এই ধরনের বেআইনি ও জনস্বাস্থ্য বিরোধী খাদ্যবিধি অমান্য করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *