পাহাড়ে ফুটবল ঝড় তুলতে আসছেন বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি কাফু! শনি-রবিবার দার্জিলিংয়ে বিরাট উন্মাদনা

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিরাট সুখবর! চলতি সপ্তাহের শেষেই পাহাড়ের কোলে পা রাখছেন ২০০২ ফিফা বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক তথা ফুটবল কিংবদন্তি কাফু (Cafu)। আগামী রবিবার দার্জিলিং পাহাড়ে একটি বিশেষ প্রস্তাবিত স্পোর্টস অ্যান্ড ওয়েলনেস রিসোর্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। ৫৬ বছর বয়সি এই মহাতারকার উপস্থিতি যে দার্জিলিংয়ের ক্রীড়া ও পর্যটন মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায় যোগ করতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

আরিয়া চা বাগান থেকে গোর্খা স্টেডিয়াম: জমজমাট আয়োজন

‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘আরিয়া চা বাগান’-এর উদ্যোগে এই স্পোর্টস অ্যান্ড ওয়েলনেস রিসোর্ট তৈরি হচ্ছে। ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ৩০০ একর বিস্তৃত এই চা বাগানটিতে বর্তমানে প্রায় ২০০ জন শ্রমিক কর্মরত। নিজেদের পর্যটন ব্যবসাকে আরও প্রসারিত করতে এবার সেখানে একটি আধুনিক ক্রীড়া ও ওয়েলনেস কেন্দ্র যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রথমে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানটি চা বাগানের নিজস্ব ফুটবল মাঠে করার পরিকল্পনা থাকলেও, পরবর্তীতে ভিড় সামলানোর কথা মাথায় রেখে অনুষ্ঠানটি লেবং-এর অপেক্ষাকৃত বড় ‘গোর্খা স্টেডিয়াম’-এ স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আগামী রবিবার দুপুর ১টা থেকে শুরু হতে যাওয়া এই অনুষ্ঠানে স্টেডিয়াম থেকেই ভার্চুয়ালি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন কাফু। এর পাশাপাশি তিনি ‘দার্জিলিং ওয়ারিয়র্স এফসি’ এবং ‘নর্থ বেঙ্গল ফাইটার্স এফসি’ নামের দুটি নতুন ফুটসাল (Futsal) দলেরও সূচনা করবেন। উদ্বোধনী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই দুটি দলের মধ্যে একটি জমজমাট প্রদর্শনী ম্যাচেরও আয়োজন করা হয়েছে।

এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ মন্ত্রী তাপস রায়ের মতো হেভিওয়েট মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

চারটি বিশ্বকাপ ও এক সোনালী ইতিহাস

পূর্ণ নাম মার্কোস ইভানজেলিস্তা দে মোরাইস হলেও ফুটবল বিশ্বে তিনি ‘কাফু’ নামেই অমর। ব্রাজিলের জার্সিতে ১৯৯৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে মোট ২০টি ম্যাচ খেলেছেন এই কিংবদন্তি রাইট-ব্যাক। ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনি টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল (১৯৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২) খেলার গৌরব অর্জন করেছেন।

তাঁর নেতৃত্বেই ২০০২ সালে জাপানের ইয়োকোহামায় জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের পঞ্চম বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। ১৯৯৪ সালের দলেও তিনি অন্যতম সদস্য ছিলেন। ফলে দার্জিলিংয়ের মাটিতে এমন একজন বিশ্বজয়ী অধিনায়কের পা পড়ার খবরে এখন থেকেই ফুটবলে মত্ত গোটা পাহাড়। কাফুকে বরণ করে নিতে এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমী ও পর্যটকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *