প্রতিদিন এই ১০টি খাবার খেয়েই পেটে গ্যাস তৈরি করছেন? অজান্তেই কোন মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছেন?

বর্তমানের ব্যস্ত জীবনযাত্রা এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে গ্যাস, অম্বল ও পেট ফাঁপার সমস্যা যেন প্রায় প্রতিটি ঘরেই নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটু ভাজাপোড়া খেলেই বুক জ্বালা কিংবা পেট ভারী হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন না এমন মানুষ পাওয়া মুশকিল। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের মতে, আমাদের প্রতিদিনের রান্নাবান্না বা ডায়েটে থাকা এমন কিছু পরিচিত খাবার রয়েছে, যেগুলির অতিরিক্ত বা অনিয়মিত সেবনের ফলেই মূলত পেটে অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি হয়। গ্যাস ও পেটের অস্বস্তি থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে কোন ১০টি খাবার ডায়েটে কমানো জরুরি, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক।
পেটে গ্যাস ও অস্বস্তি বাড়ায় যে ১০টি খাবার:
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার: ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা দুগ্ধজাত খাবার হজমে সমস্যা থাকলে পনির, মাখন বা দুধ খাওয়ার ফলে পেটে গ্যাস ও অস্বস্তি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
বিনস ও শিম জাতীয় খাবার: এতে প্রচুর পরিমাণে ওলগোস্যাকারাইড নামক জটিল শর্করা থাকে, যা পাকস্থলীতে ভাঙতে সময় নেয় এবং গ্যাস তৈরি করে।
পেঁয়াজ ও রসুন: কাঁচা বা রান্না করা পেঁয়াজ-রসুনে থাকা ফ্রুকটান (Fructans) অন্ত্রে গ্যাস সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ।
ব্রকলি, বাঁধাকপি ও ফুলকপি: ক্রুসিফেরাস পরিবারের এই সবজিগুলিতে রাফিনোজ নামের এক ধরনের শর্করা থাকে, যা হজমের সময় গ্যাস উৎপন্ন করে।
আপন ও নাশপাতি জাতীয় ফল: মিষ্টি ও পুষ্টিকর হলেও এই ফলগুলিতে থাকা ফ্রুক্টোজ এবং সরবিটল অনেক সময় অনেকের শরীরে গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।
গম ও ময়দা জাতীয় খাবার: গ্লুটেন সংবেদনশীলতা থাকলে রুটি বা ময়দার তৈরি খাবার থেকেও পেটে গ্যাস হতে পারে।
কোমল পানীয় ও সোডা: সোডা বা কার্বনেটেড ড্রিংকস পানের সময় অতিরিক্ত বাতাস সরাসরি আমাদের পাকস্থলীতে প্রবেশ করে, যার ফলে অস্বস্তি ও গ্যাস হয়।
ডাল জাতীয় শস্য: রাজমা, ছোলা বা মুগ ডালের মতো খাদ্য উপাদানগুলি সঠিকভাবে না ভিজিয়ে রান্না করলে গ্যাস তৈরির আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়।
কৃত্রিম মিষ্টি (Artificial Sweeteners): চুইঙ্গাম বা ডায়েট খাবারে ব্যবহৃত সরবিটল ও জাইলিটল জাতীয় উপাদান অন্ত্রের উপকারে বাধা দেয় এবং গ্যাস সৃষ্টি করে।
অতিরিক্ত তেল ও ভাজাপোড়া খাবার: ফাস্টফুড এবং ডিপ ফ্রাইড খাবার হজম হতে অনেক বেশি সময় নেয়, যা পেটে দীর্ঘক্ষণ গ্যাস ও অস্বস্তি বজায় রাখে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, গ্যাস ও পেটের গোলযোগ এড়াতে এই খাবারগুলি সম্পূর্ণ বর্জন না করে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনই আপনাকে রাখতে পারে সম্পূর্ণ সুস্থ ও চাঙ্গা।