“মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে গেল পাকিস্তান!”-এশিয়া কাপে লজ্জার রেকর্ড গড়ল পড়শি দেশ

মহিলা এশিয়া কাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে দিল ভারত। দুবাইয়ের মাঠে বোলারদের দাপটের পর ব্যাট হাতেও আধিপত্য বিস্তার করে সহজ জয় তুলে নেয় ভারতীয় দল। নবম ওভারে ছক্কা হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। এই ম্যাচের মাধ্যমেই ব্যক্তিগত রেকর্ডের এক অনন্য নজির গড়েছেন ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। পুরুষ ও মহিলা—উভয় বিভাগ মিলিয়ে বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১৫০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অধিনায়কত্ব করার বিরল গৌরব অর্জন করলেন তিনি।
শনিবার দুবাইয়ে আয়োজিত এই ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। কিন্তু ভারতীয় স্পিনারদের ঘূর্ণির মুখে পড়ে ধসে পড়ে পাক ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ১৮.১ ওভারে মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান দল। মহিলা টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে পাকিস্তানের এটিই সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর। ব্যাটিং বিপর্যয়ের হাল এমন ছিল যে, দলের চার ব্যাটার খাতা না খুলেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন। মাত্র দু’জন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শাওয়াল জুলফিকার এবং মুনিবা আলি করেন ১৩ রান।
ভারতের দুর্দান্ত বোলিং আক্রমণের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি। বল হাতে নজির গড়েন স্পিনার শ্রী চরণী এবং প্রেমা রাওয়াত। দু’জনেই পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়ে তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। তাঁদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দীপ্তি শর্মা নেন দুটি উইকেট এবং শেফালি বর্মা পান একটি সাফল্য। যদিও ফিল্ডিংয়ের সময় ভারতীয় দলের কিছু ক্যাচ মিস ও ছোটোখাটো ভুলত্রুটি দেখা গিয়েছিল, তবে পাকিস্তানের চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে সেই ভুলগুলি ম্যাচের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
বিশ্বমঞ্চে অনন্য ইতিহাস
এ দিন মাঠে নামার সঙ্গেই ক্রিকেট বিশ্বে ইতিহাস গড়েন হরমনপ্রীত কৌর। বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে ১৫০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ড গড়লেন তিনি। এই রেকর্ডের গুরুত্ব আরও অনেক বেশি, কারণ এমএস ধোনি, বিরাট কোহলি বা রোহিত শর্মার মতো পুরুষ ক্রিকেটের কিংবদন্তিরাও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অধিনায়ক হিসেবে ১০০ ম্যাচের গণ্ডি পার করতে পারেননি। পুরুষ ক্রিকেটেও হরমনপ্রীতের ধারেকাছে কেউ নেই। পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক ৯১টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করার রেকর্ড রয়েছে নামিবিয়ার গেরহার্ড এরাসমাসের। অন্যদিকে, মহিলা ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু ১২১টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে এবং অস্ট্রেলিয়ার মেগ ল্যানিং ১০০টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।
২০১৬ সালে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন হরমনপ্রীত। এখনও পর্যন্ত অধিনায়ক হিসাবে তাঁর আগের ১৪৯টি ম্যাচের মধ্যে ৮৬টিতে ভারতকে জয় এনে দিয়েছেন তিনি। শুধু নেতৃত্ব দেওয়াই নয়, ব্যাট হাতেও সমানভাবে সফল তিনি। অধিনায়ক হিসেবে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৩,৩০১ রান। টসের সময় তাঁর এই ১৫০তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অধিনায়কত্বের রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি জানান, অধিনায়ক হিসাবে দেড়শো ম্যাচ খেলা তাঁর কাছে অত্যন্ত গর্বের, তবে সবচেয়ে বড় কথা হল খেলার প্রতি আনন্দ ও আবেগ ধরে রাখা।
এই জয়ের সুবাদে চলতি এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকাপোক্ত করে ফেলল হরমনপ্রীতের দল। গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষস্থান ধরে রেখেই খেতাবের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ভারত।