পাহাড়ে বিরাট বিপর্যয়! ভারী বৃষ্টির জেরে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল দার্জিলিং টয়ট্রেনের লোকো শেডের ছাদ, আহত ৭

পাহাড় জুড়ে একটানা মুষলধারে বৃষ্টির জেরে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে গেল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (DHR) লোকোমোটিভ শেডে। বুধবার সকালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকার অন্তর্ভুক্ত ডিএইচআর-এর দার্জিলিংয়ের ঐতিহাসিক টয়ট্রেন লোকো শেডের পুরনো কাঠ ও লোহার বিম দিয়ে তৈরি ছাদ আচমকাই ভেঙে পড়ে। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীসহ মোট সাতজন রেলকর্মী ও মেকানিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

কাজের মাঝে হঠাৎ বিপত্তি
ঘটনার সময় লোকো শেডের ভিতরে চারটি ঐতিহ্যবাহী স্টিম ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল। হঠাৎই বিকট শব্দে শেডের ছাদের একটি অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। শেডের ভিতরে কর্মরত কর্মীরা সেই ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েন। সহকর্মী ও অন্যান্য রেলকর্মীরা দ্রুত সাহসিকতার সঙ্গে উদ্ধারকাজে হাত লাগান।

খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দার্জিলিং সদর থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনী। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত সাত কর্মীকে দ্রুত উদ্ধার করে দার্জিলিং সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে স্বস্তির খবর, আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে সামান্য আঘাত পেলেও বর্তমানে সকলের অবস্থাই স্থিতিশীল।

কী জানাল রেল কর্তৃপক্ষ?
এই দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে ডিএইচআর-এর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, “টানা বৃষ্টির জেরে লোকো শেডের পুরনো কাঠ ও কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছিল। তার ফলেই ছাদের একটা অংশ ভেঙে পড়েছে। দুর্ঘটনায় আমাদের সাতজন কর্মী আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মী রয়েছেন। সৌভাগ্যবশত তাঁদের আঘাত মারাত্মক নয়। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার আহত কর্মীদের সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা।”

তিনি আরও জানান, শেডের ভিতরে থাকা চারটি স্টিম ইঞ্জিন বা অন্য যন্ত্রাংশের ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে এবং শেডটির বর্তমান কাঠামোগত অবস্থা কী, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি দল পরিদর্শন করছে। ঐতিহাসিক এই লোকো শেডের ঐতিহ্য রক্ষা ও সুরক্ষার জন্য খুব শীঘ্রই জোরকদমে মেরামতির কাজ শুরু হবে। এদিকে দুর্ঘটনার জেরে সংলগ্ন এলাকায় সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *