বারুইপুর গণপিটুনি কাণ্ড: অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার আর্জি! সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিল হাইকোর্ট

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের প্রতিবাদের জেরে গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া সিপিআইএম নেতা লাহেক আলিকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট। অভিযুক্ত নেতার মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে চিকিৎসাধীন থাকায়, তাঁর জামিনের জোরালো আবেদন জানিয়েছিলেন আইনজীবীরা। বুধবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন। তবে জামিন পেলেও আদালত তাঁর ওপর বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছে।

আদালতের কড়া শর্ত ও নির্দেশ
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, জামিন পেলেও এই নির্দিষ্ট সময়ে লাহেক আলি এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। পাশাপাশি, বারুইপুর থানা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যখনই তাঁকে তলব করবে, তখনই তাঁকে হাজিরা দিতে হবে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে এবং সেদিনই রাজ্য পুলিশকে কেস ডায়েরি ও সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। বিগত ৫০ দিন ধরে তিনি কারাবন্দি ছিলেন।

আদালতে কী যুক্তি দিল রাজ্য ও বিচারপতির পর্যবেক্ষণ?
এদিনের শুনানিতে রাজ্যের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কল্লোল মণ্ডল দাবি করেন, উস্কানিমূলক মন্তব্য করার জন্যই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এর উত্তরে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ কড়া ভাষায় জানতে চান, “কী মন্তব্য তিনি করেছিলেন? সেটা দেখি। কারণ সমস্ত অভিযোগের ভিত্তি এটাই। এটা দেখাতে না পারলে আমি রাজ্যের এই গ্রেফতারিকে সমর্থন করতে পারি না।” রাজ্যের আইনজীবী সেই মুহূর্তে নির্দিষ্ট মন্তব্যের প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন।

এরপর বিচারপতি ফের প্রশ্ন করেন, সরাসরি ধর্ষণ ও গণপিটুনির ঘটনার সঙ্গে কি ওই নেতা যুক্ত ছিলেন? রাজ্যের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয় যে, তিনি ধর্ষণের ঘটনায় সরাসরি যুক্ত নন, তবে গণপিটুনির ঘটনায় উস্কানিমূলক কথা বলে জনতাকে উত্তেজিত করার অভিযোগেই তাঁকে ধরা হয়েছে। এরপরই অভিযুক্তের মায়ের গুরুতর অসুস্থতার কথা মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে আদালত ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মোট চারটি স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *