উৎসবের আগেই চরম বিপদ! দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে হু হু করে ছাড়ছে জল, ভাসবে দক্ষিণবঙ্গের এই ৩ জেলা?

ফের গভীর নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গে নেমে এল প্রাকৃতিক দুর্যোগের কালো ছায়া। গত দু’দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে বিপজ্জনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে দামোদর নদ ও তার উপনদীগুলির জলস্তর। শিল্পাঞ্চল আসানসোল-দুর্গাপুর ছাড়াও প্রতিবেশী ঝাড়খণ্ড ও বিহারে নদীর উপচে পড়া জল সামলাতে কার্যত নাজেহাল সেচ দফতর। বুধবার সকালেই দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ৯৬ হাজার ৯00 কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। ব্যারেজ থেকে এই বিপুল জল ছাড়ার খবরে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ; দামোদরের নিম্ন অববাহিকার তিন প্রধান জেলা—পূর্ব বর্ধমান, হুগলি ও হাওড়ায় দেখা দিয়েছে বন্যার প্রবল ভ্রুকুটি।
কেন বাড়ছে আশঙ্কার মেঘ?
সাধারণত দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ ১ লক্ষ কিউসেক অতিক্রম করলেই নিম্ন অববাহিকায় প্লাবন পরিস্থিতি তৈরি হয়। বর্তমান জল ছাড়ার পরিমাণ (৯৬,৯০০ কিউসেক) ১ লক্ষের সামান্য নিচে থাকলেও, ঝাড়খণ্ডের মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে জল ছাড়ার ধারা অব্যাহত থাকলে এবং নিচু এলাকায় বৃষ্টি চললে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রাণের বাইরে চলে যেতে পারে। এছাড়া নদীগুলি কানায় কানায় পূর্ণ থাকায় ইতিমধ্যেই বিপদসীমার উপর দিয়ে জল বইতে শুরু করেছে।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি
পূর্ব বর্ধমান: দক্ষিণ দামোদর সংলগ্ন জামালপুর, রায়না এবং খণ্ডঘোষের নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হওয়ার মুখে।
হুগলি: বরাবরের মতো এবারও চরম ঝুঁকিতে আরামবাগ মহকুমা। বিশেষ করে আরামবাগ, খানাকুল ১ ও ২ নম্বর ব্লক এবং পুরশুড়ার বিস্তীর্ণ গ্রাম জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা।
হাওড়া: উদয়নারায়ণপুর ও আমতা ১ ও 2 নম্বর ব্লকের নিচু গ্রামগুলিতে দামোদরের অতিরিক্ত জল ঢুকে বিস্তীর্ণ কৃষি জমি ও বসতি প্লাবিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও সতর্কতা
উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে এই দুর্যোগ এড়াতে নবান্নের নির্দেশে জেলা প্রশাসনগুলিকে চরম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। নদী তীরবর্তী এবং মাটির বাড়িতে থাকা মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে বা ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সেচ দফতরের আধিকারিকদের দিনরাত নদীর বাঁধ ও জলস্তরের ওপর কড়া নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে।
দামোদর নদের জলস্তর নিয়ে দুর্গাপুর ব্যারেজের সেচ বিভাগের এক কর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে জল ছাড়ার পরিমাণের ওপরই নির্ভর করছে দক্ষিণবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি। যেভাবে বৃষ্টি বাড়ছে, তাতে যে কোনও মুহূর্তে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।” শারদ উৎসবের আগে ‘দুঃখের নদ’ দামোদর ফের সাধারণ মানুষের জীবনে অন্ধকার নিয়ে আসবে কি না, সেটাই এখন সবথেকে বড় দুশ্চিন্তার বিষয়।