বড় ধাক্কা! পুজোর আগেই ১১ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক, টানা তিন দিন বন্ধ থাকবে লেনদেন?

পুজোর মরশুমের ঠিক আগেই সাধারণ মানুষ ও গ্রাহকদের জন্য বড়সড় বিপদের ঘণ্টা বেজে গেল। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দাবিদাওয়া এবং সরকারি নীতির প্রতিবাদে এবার সরাসরি দেশজুড়ে লাগাতার আন্দোলনের পথে হাঁটছে ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলি। দেশের ৯০ শতাংশের বেশি ব্যাঙ্ক কর্মীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ ‘ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস’ (UFBU) আগামী ১১ সেপ্টেম্বর এক দিনের দেশব্যাপী ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। দাবি না মানলে এই আন্দোলন আরও তীব্র হওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মূল দাবিগুলি কী কী? ব্যাঙ্ক কর্মীদের এই অসন্তোষের মূল কারণ প্রধানত দুটি:
-
সপ্তাহে ৫ দিন ব্যাঙ্কিং: ২০১৫ এবং ২০২০ সালের বিভিন্ন চুক্তি ও প্রতিশ্রুতির পরও সমস্ত শনিবারে ব্যাঙ্ক ছুটি ঘোষণা করার বিষয়টি এখনও ঝুলে রয়েছে। কর্মীরা সোম থেকে শুক্রবার প্রতিদিন অতিরিক্ত ৪০ মিনিট কাজ করতে রাজি থাকলেও, অর্থ মন্ত্রকের অনুমোদন না মেলায় তা কার্যকর হয়নি। অথচ আরবিআই (RBI), এলআইসি (LIC) বা নাবার্ডের মতো প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যেই এই নিয়ম চালু রয়েছে।
-
পিএলআই (PLI) স্কিমে বৈষম্য: ২০২০ সালের চুক্তি অনুযায়ী সমস্ত কর্মী সমান ইনসেনটিভ পেলেও, ২০২৪ সালের নভেম্বর ও সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় শুধুমাত্র স্কেল IV থেকে VII পর্যন্ত সিনিয়র অফিসারদের জন্য বিশাল অঙ্কের ইনসেনটিভের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে ৮ লক্ষ কর্মীর মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ সুযোগ পেলেও বাকি ৯৫ শতাংশ কর্মী বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ। ইউনিয়নগুলির মতে, এই নিয়ম সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক এবং এটি কর্মীদের মধ্যে বড় বিভেদ তৈরি করবে।
আন্দোলনের পরবর্তী সূচি: ইউনিয়নগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর এক দিনের প্রতীকি ধর্মঘট পালিত হবে। তাতেও যদি সরকারের টনক না নড়ে, তবে আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা তিন দিন ব্যাঙ্ক ধর্মঘট চলবে। এরপরও দাবি না মানলে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য চিরতরে স্তব্ধ হতে পারে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা। রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি, বিদেশি, গ্রামীণ এবং সমবায়—সব ধরনের ব্যাঙ্কের কর্মীরাই এই আন্দোলনে শামিল হচ্ছেন। ফলে পুজোর মুখে ব্যাঙ্কের যাবতীয় জরুরি কাজ সেরে না রাখলে পড়তে হতে পারে চরম বিপাকে।