বাংলাদেশে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং, বিদ্যুতের হাহাকার চলছে গোটা দেশজুড়ে

তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশজুড়ে চলা ব্যাপক লোডশেডিংয়ের মাঝেও ঢাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের প্রক্রিয়াগত খরচ মেটানোর জন্য সামান্য অতিরিক্ত চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রতি ইউনিটে মাত্র ১ পয়সা চার্জ বাড়াতে চাওয়া এই সামান্য প্রস্তাব নিয়েই বাংলাদেশের সরকারি মহলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। বর্তমানে ভারত থেকে আমদানিকৃত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য গড়ে প্রায় ১১ টাকা খরচ করে বাংলাদেশ। অথচ এই সামান্য খরচ এড়িয়ে যাওয়ার মনোভাব দেখা গেলেও, চিনা একটি সংস্থার প্রস্তাবিত প্রকল্পে ইউনিটপিছু ২৫ টাকা খরচ করতে রাজি হয়েছে ঢাকা।
চিনা প্রকল্পের নেপথ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমীকরণ
চিনের যে সংস্থার সঙ্গে এই প্রকল্পের আলোচনা চলছে, তা থেকে উৎপন্ন বিদ্যুতের পরিমাণ মাত্র ৪২ মেগাওয়াট। যা দেশের বিশাল বিদ্যুৎ ঘাটতির তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। তা সত্ত্বেও এই চিনা প্রকল্পে সায় দেওয়ার মূল কারণ কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং ঢাকার ভয়াবহ আবর্জনা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া। চিনের ওই সংস্থা আমিনবাজারের ভাগাড়ের বর্জ্য থেকেই এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, তেমনই রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জটিল সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।
বাস্তব ঘাটতি ও ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা
বর্তমানে গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে প্রতিদিনের বিদ্যুতের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে বিরাট ফারাক তৈরি হয়েছে। এক একটি অঞ্চলে দিনে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলছে, যা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এর জেরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে চিন যতই বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নিক না কেন, দেশের মোট আমদানিকৃত বিদ্যুতের সিংহভাগ জোগান দেয় ভারতই। বর্তমান একাধিক চুক্তির মাধ্যমে ভারত থেকে প্রায় ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেয়ে থাকে বাংলাদেশ। ফলে ৪২ মেগাওয়াটের চিনা প্রকল্পের সঙ্গে ভারতের বিশাল জোগানকে সরাসরি তুলনা করা চলে না, বরং বর্জ্য সংকট মেটানোর তাগিদেই এই চিনা প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ঢাকা।