‘নিজের কেন্দ্রে গেলেই ডিম-পাথর ছোড়া হচ্ছে!’ ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মহুয়া, কাঠগড়ায় দলেরই বিধায়ক

নিজের সংসদীয় এলাকায় একের পর এক তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কালীগঞ্জের পর এবার চাপড়ায় দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে চরম হেনস্তার শিকার হতে হলো তাঁকে। বৈঠক শেষে বেরোনোর সময় তাঁর গাড়ি ঘিরে কালো পতাকা প্রদর্শন, স্লোগান এবং গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর ছোড়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পরেই কড়া আইনি পদক্ষেপের আর্জি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সাংসদ।
হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ ও আইনি লড়াই: আদালতে মহুয়ার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন, একজন নির্বাচিত সাংসদকে নিরাপত্তা না দিয়ে উল্টে তাঁর ওপর বারবার হামলা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে সম্প্রতি দলবদল করা কিছু নেতার পুলিশি নিরাপত্তা থাকলেও মহুয়া হামলার শিকার হচ্ছেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো সাংসদের ওপর এ ধরনের আক্রমণ অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মহুয়া মৈত্র যখনই নিজের লোকসভা কেন্দ্রে প্রবেশ করবেন, তখন থেকে রাজ্য পুলিশকে তাঁর সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে দু’জন পুলিশকর্মী মোতায়েন করতে হবে, যাতে তিনি কোনোভাবেই হেনস্তার শিকার না হন। তবে এই বিশেষ নিরাপত্তা আপাতত ৩০ দিনের জন্য মঞ্জুর করা হয়েছে এবং আগামী ১ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।
তৃণমূলের অন্দরেই কোন্দল চরমে: ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা চাপড়ার বিধায়ক জেবের শেখের সঙ্গে মহুয়ার রাজনৈতিক বিরোধ এখন প্রকাশ্যে। মহুয়া মৈত্র সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, স্থানীয় বিধায়ক জেবের শেখ এবং বিজেপি অনুগামীরা মিলে এই পরিকল্পিত বিক্ষোভ তৈরি করেছে। অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে বিধায়ক দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীরা কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং তাঁরা চাপড়ার সাধারণ মানুষ। সবমিলিয়ে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরের কোন্দল এখন রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।